রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদের ছোট ভাই মুক্তাসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতারের যে দাবি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী করেছিলেন, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, চাঁদের ভাইসহ অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। চাঁদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
একই কথা বলেছেন চাঁদের ছোট ভাই আজিজুল বারি মুক্তা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় মুঠোফোনে মুক্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় পুঠিয়া সার্কেলের এসপি আমাদের থানায় নিয়ে যান। তারপর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ১২টার দিকে ছেড়ে দেন। বর্তমানে আমরা নিজ নিজ বাড়িতে আছি। কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।’
পুলিশ কেন থানায় ডেকেছিল জানতে চাইলে মুক্তা আরও বলেন, ‘ভাইয়ের (চাঁদের) সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কিন্তু ২৩ বছর আগে গ্রামের বাড়ি থেকে চলে এসেছি আমরা। ফলে দীর্ঘদিন যোগাযোগ না থাকায় থানায় গিয়ে ভাইয়ের বিষয়ে পুলিশকে কোনও তথ্য দিতে পারিনি।’
মঙ্গল দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারের দাবির বিষয়ে মুক্তা বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানি না।’
এ ব্যাপারে পুঠিয়া থানার ওসি ফারুক হোসেন বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারের বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী যেসব তথ্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয়। কারণ থানায় চাঁদের ভাই ও স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই দিন রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা বাড়িতেই আছেন। অথচ দুপুরে রিজভী সাহেব গ্রেফতারের কথা জানালেন, এটি মিথ্যা তথ্য।’
ওসি আরও বলেন, ‘জেলা পুলিশ সুপারসহ আমরা চাঁদকে গ্রেফতারের জন্য মাঠে আছি। চাঁদকে গ্রেফতারের জন্য জোর তৎপরতা চলছে। তিনি কোথায় আছেন, তা আমরা জানি না। মামলার পর থেকে আত্মগোপনে আছেন ধারণা করছি।’
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেছেন, ‘চাঁদকে না পেয়ে তার ছোট ভাই মুক্তা, বড় মেয়ের স্বামী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া এবং চাঁদের পিএস জালালের স্ত্রী, শাশুড়ি ও ছোট ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।’
প্রসঙ্গত, পুঠিয়া উপজেলার শিবপুর স্কুল মাঠে গত শুক্রবার (১৯ মে) বিকালে ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জেলা ও মহানগর বিএনপির সমাবেশে আবু সাঈদ চাঁদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘১০ দফা নয়, এক দফা এক দাবি। শেখ হাসিনাকে কবরস্থানে পাঠাতে হবে। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করাই ছাড়বো।’
সেই বক্তব্যের ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সোমবার রাতে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে পুঠিয়া থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।









