বগুড়ায় গণতন্ত্র মঞ্চের রোডমার্চে অংশ নেওয়া গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সমাবেশ শেষে ফেরার পথে গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হকের।
সোমবার (৫ জুন) রাতে সাইফুল হক সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘আজ সন্ধ্যায় বগুড়ার মোকামতলায় গণতন্ত্র মঞ্চের রোডমার্চের সমাবেশ শেষে গাড়িবহরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। এতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক আইয়ুব আলী, শ্রমিক সংহতির ওসমান গনি ও গাড়িচালক শাখাওয়াত আহত হয়েছেন। একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার রাত ৯টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি জানান, হামলার সময় তাদের মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে আইয়ুব আলী, ওসমান গনি ও গাড়িচালক শাখাওয়াত আহত হয়েছেন।
মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আশিক ইকবাল বলেন, ‘গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা পথসভা শেষে বগুড়ায় ফেরার সময় মোকামতলা বন্দরে বাধার মুখে পড়েন। পরে পুলিশ তাদের গাড়িবহর নিরাপদে পার করে দেয়।’
এদিন রাত ১১টার দিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বগুড়ায় গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন।
এর আগে মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশের আয়োজন করে গণতন্ত্র মঞ্চ। একই স্থানে একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচি দেন শিবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। এতে গণতন্ত্র মঞ্চ তাদের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করে। প্রায় এক কিলোমিটার দূরে জয়পুরহাট সড়কের মোড়ে অস্থায়ী মাছের বাজার এলাকায় সমাবেশ করে তারা। পরে সেখান থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগ তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম সম্পা বলেন, দুটি রাজনৈতিক দল সমঝোতার ভিত্তিতে আলাদা স্থানে সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ১৪৪ ধারা জারির প্রয়োজন হয়নি।
গণতন্ত্র মঞ্চ মঙ্গলবার (৬ জুন) বেলা ১১টায় শহরের সাতমাথায় শহীদ খোকন পার্কের সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে যুবলীগ লীগ একই সময় শান্তি সমাবেশ ঘোষণা করেছে। সংঘাত ও শহরে যানজটের শঙ্কায় গণতন্ত্র মঞ্চকে অন্যত্র সমাবেশ করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে পুলিশ।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘পুলিশ মৌখিকভাবে আমাদের খোকন পার্কে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে। তাই আমরা মঙ্গলবার সকালে সেখানে সমাবেশ করবো।
এ প্রসঙ্গে বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, মঙ্গলবার সকালে শহরে সমাবেশ ও শান্তি সমাবেশ করার ব্যাপারে গণতন্ত্র মঞ্চ ও যুবলীগ আবেদন করেছে। শহরে যানজট ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় উভয় দলকে কর্মসূচি অন্যত্র করতে বলা হয়েছে। কোনোভাবেই যুবলীগ কিংবা গণতন্ত্র মঞ্চকে খোকন পার্কে সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না।
মির্জা ফখরুলের প্রতিবাদ
এদিকে, সোমবার বগুড়ায় গণতন্ত্র মঞ্চের রোডমার্চে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন ‘এভাবে সন্ত্রাসী হামলা-মামলার মধ্যে দিয়ে গণআন্দোলন আর দাবিয়ে রাখতে পারবে না। তাদের পতন এখন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে হামলাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।









