মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এরা (সরকার) অগোছালো হয়ে গেছে। প্রতিদিনই তারা কী বলছে নিজেরাই জানে না। কথা খুব পরিষ্কার, আমরা বাংলাদেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে হারানো ভোটের অধিকার ফেরত পেতে চাই। আমরা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে চাই। এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে দড়ি ধরে টান মারার জন্য সবাইকে সংগঠিত হতে হবে।’
সোমবার (১৯ জুন) বিকালে বগুড়ায় তারুণ্যের সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব এই আহ্বান জানান। বগুড়ার সেন্ট্রাল হাই স্কুল মাঠে সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে এই সমাবেশ হয় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে। সমাবেশে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের তিনটি অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার এ বছরের জন্য বাজেট দিয়েছে। তাদের দলের লোকেরা বলছে এই বাজেট হচ্ছে শুধু বড়লোককে বড় করার জন্য। জাতীয় পার্টি তাদের সঙ্গে ছিল। তাদের নেতা কাদের সাহেব (জি এম কাদের) গতকাল বলেছেন, এখন দেশের অবস্থা ভয়াবহ। দেশ এখন খাদের কিনারে চলে গেছে। আরেকটু ধাক্কা দিলে দেশ শেষ হয়ে যাবে।’
‘আমি কথাটা একটু ঘুরিয়ে বলতে চাই, আপনারা সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ সিনেমা দেখেছেন কী?… এক বছর প্রতাপশালী এই আওয়ামী লীগের মতো সরকার তার ইচ্ছামতো দেশ চালাতো, যেমন খুশি তেমন দেশ চালাতো…। শেষে মানুষ বিদ্রোহ করলো, তারা একটা মূর্তি বানিয়েছিল ওই রাজার। ওই মূর্তি উদ্বোধন করবে যেদিন সেদিন হাজার হাজার লোক এসে গেলো। মূর্তিতে একটা দড়ি লাগিয়ে মানুষ বললো, দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান। আজকে এই দড়ি ধরে টান মারতে হবে। আর রাজাকে খান খান করতে হবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এরা এমন খেয়েছে যে লোভটা শেষ হয় না। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখন মুনতাসীর মামুন নামে একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন। তার একটা নাটক ছিল, যার চরিত্র ছিল শুধু ক্ষুধা। সব খেয়ে ফেলে, যা পায় তাই খায়, শেষে কাগজ খাওয়া শুরু করলো, টেবিল-চেয়ার সব খাওয়া শুরু করলো। সরকারের অবস্থা হয়েছে এরকম। এখন তারা পুরো দেশটা খেয়ে ফেলেছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন তারা আবোল-তাবোল বলতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারও ভয়ে নাকি তিনি ভীত নন। ভীত যদি না হবেন তাহলে বিদেশ থেকে ফিরে এসে এ কথা বললেন কেন জনগণের সামনে, আমাকে তারা সরিয়ে দিতে চায়। কারা সরাতে চায়? কেন সরাতে চায়?। আপনি ভয় পান না, আবার বলেন অনেক শক্তিশালী সেই দেশ… আমাকে দুই মিনিটে শেষ করে দিতে পারে।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘ওদের (আওয়ামী লীগ) সাধারণ সম্পাদক বলছেন, ভিসানীতিতে তারা ভয় পান না, তারা নাকি নতুন ভিসানীতি তৈরি করবেন। এখন জনগণ কী বলবে? জনগণ হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছে না…। এদের কথা শুনলে ঘোড়াও হাসে।’
উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীর ন্যায্য হিস্যা এই সরকার ১২ বছরেও আনতে পারেনি বলে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘আপনি কী করেছেন? অনেক কথা বলেন, এই দেশের জন্য যা করেছেন তা নাকি কেউ কোনোদিন করেনি। আজকে ভারত সব গেট খুলে দেওয়ার কারণে লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম-রংপুরের অনেক অঞ্চল ডুবে গেছে। আবার বন্যা হবে। তাহলে তিস্তা নদীর বণ্টনই তো আপনি করতে পারেননি। আজকে ১০/১২ বছর হয়ে গেলো, তিস্তার চুক্তি করতে পারেননি। সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে পারেননি।’
সমাবেশে আসার পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার এত ভীতু যে গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছে। গাড়ি চলতে দিলে বগুড়া শহরে জায়গা দিতে পারবে না। এই কারণে গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছে।’
সমাবেশ মঞ্চে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসহ দুটি চেয়ার সংরক্ষিত রাখা হয়।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানীর সভাপতিত্বে ও যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আসাদুল হাবিব দুলু, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাসহ তিনটি অঙ্গসংগঠনের জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।









