রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জাকের পার্টির প্রার্থী লতিফ আনোয়ার বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) বিশ্বাস করে ভোটকেন্দ্রে কোনও পোলিং এজেন্ট দেননি। বলেন, ‘আমি সবাইকে বিশ্বাস করতে চাই। বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে বিশ্বাস করতে চাই। বাংলাদেশের জনগণকে বিশ্বাস করি। আর বিশ্বাসের কারণেই একমাত্র আমি কোনও কেন্দ্রেই এজেন্ট দিইনি।’
গোলাপ ফুল প্রতীকের এই প্রার্থী জানান, মানুষকে ভালোবাসার জন্য তিনি রাজনীতি করেন। আর ভালোবাসার প্রথম শর্ত হলো বিশ্বাস। তিনি সবাইকে বিশ্বাস করতে চান বলেই পোলিং এজেন্ট দেননি।
বুধবার (২১ জুন) দুপুর ১২টায় রাজশাহী মুসলিম হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন লতিফ আনোয়ার।
তিনি বলেন, ‘ভোট একটা মাধ্যম। রাজনীতির মাঠে মানুষের সেবা করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। মানুষকে ভালোবাসার মাধ্যম। আর ভালোবাসার প্রথম শর্ত হলো বিশ্বাস।’
জাকের পার্টির কর্মী সংকটের কারণে এজেন্ট দেওয়া যায়নি কিনা জানতে চাইলে লতিফ আনোয়ার বলেন, ‘আমার যথেষ্ট নেতাকর্মী আছে। কেউ যদি মনে করে জাকের পার্টির ভীত নরম তাহলে তিনি ভুল করছেন। সারাদেশে জাকের পার্টির প্রচুর নেতাকর্মী ও সমর্থক আছে। আমি বলছি, জাতিকে নতুন কিছু দিতে চাই। যেটা কোনও রাজনৈতিক দল এ রকম করে না। একমাত্র জাকের পার্টি মানুষকে বিশ্বাস করতে জানে এবং মানুষের বিশ্বাস রাখতেও জানে। সে জন্যই আমি কোনও কেন্দ্রেই পোলিং এজেন্ট দিইনি।’
এখন পর্যন্ত কোথাও সমস্যা হয়নি জানিয়ে লতিফ আনোয়ার বলেন, ‘রাজশাহীতে খুব সুন্দর পরিবেশে ভোট চলছে। কিছুক্ষণ বৃষ্টি হলো। আবহাওয়াটা ঠান্ডা হলো। আমার আশা, রাজশাহীর মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দেবেন। তারা তাদের পছন্দমতো যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন।’
নির্বাচনে যে ফলই হোক, মেনে নেবেন কিনা জানতে চাইলে এই তরুণ আইনজীবী বলেন, ‘ভোট এখন পর্যন্ত ভালো চলছে। কিন্তু এখনও শেষ হয়ে যায়নি। আমরা অপেক্ষা করি। এখনও আমরা মাঝপথে আছি। ভোটটা একটা বড় প্রক্রিয়া। এটা শেষ হওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তারপর ফলাফলের কথা বলা যাবে।’
ইভিএম মেশিন নিয়ে জাকের পার্টির এই প্রার্থী বলেন, ‘ইভিএমের কারণে ভোটগ্রহণে দেরি হচ্ছে এটা বাস্তব কথা। আমি যে পাঞ্জাবিটা পরে আছি, সেটা অন্য কারও গায়ে হয়তো ফিট হবে না। সেটা আমাদের ভালোভাবে দেখতে হবে। কেননা এক দেশে একটা ভালো চলে সেটা যে আরেক দেশেও ভালো চলবে তা বলা যাবে না। বাংলাদেশ এখনও মনে হয় ইভিএমের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত নয়।’
সিটি নির্বাচনে জাকের পার্টি ছাড়াও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচার শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ নিয়ে কোনও অভিযোগ তোলেননি জাকের পার্টির প্রার্থী।
সকাল ৮টা থেকে শহরের ৩০টি ওয়ার্ডের ১৫৫টি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ চলছে। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনে তিন জন মেয়র প্রার্থী ছাড়াও ১১২ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ৪৬ জন সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী আছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন।









