
স্কুলটিতে নেই কোনও স্থায়ী ভবন। আর যা আছে তাও পরিত্যক্ত। তাই ক্লাস চলছে গাছতলায়। একদিন দু’দিন নয়, গত চার বছর ধরেই এভাবে চলছে পাঠদান চলছে আক্কেলপুর উপজেলার পুনঘরদীঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
ক্লাসরুম বলতে রয়েছে, টিন দিয়ে ঘেরা ছোট্ট দুটি খুপরি ঘর। যার একটি অফিস, অন্যটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর একটি কক্ষে সব শিক্ষার্থীর স্থান সংকুলান না হওয়ায় গাছতলায় ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের।
রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জয়পুরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই টিনের ঘরের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতেই আগন্তুক দেখে শিক্ষার্থীরা উঠে দাঁড়িয়ে ছালাম দেয়। কিন্তু একটি রুমে এতো শিক্ষার্থী থাকায় তাদের চিৎকারে কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, ১৯২১ সালে তিনটি কক্ষের একটি ভবনে স্কুলটির যাত্রা শুরু হয়। ২০১১ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন প্রশাসন। এরপর বিদ্যালয় মাঠে পুরাতন টিন দিয়ে দুই কক্ষের একটি ঘর নির্মাণ করা হয়। যার একটিতে শিশু ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়। অন্যটি শিক্ষকরা অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করেন। আর শ্রেণিকক্ষ না থাকায় মাঠের এককোণে গাছতলায় চট বিছিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়।
পুনঘরদীঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমান শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫৭ জন। আর এর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র চার জন। তবে একজন প্রশিক্ষণে যাওয়ায় তিন শিক্ষককেই সব দায়িত্ব পালন করতে হয়।
ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র মাহবুব হোসেন জানায়, বিদ্যালয়ে কক্ষ না থাকায় তাদের গাছতলায় মাটিতে বসে ক্লাস করতে হয়। বৃষ্টি হলেই ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া লাগে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও অভিভাবক মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘একটি নতুন ভবন নির্মাণের আবেদন জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকটি দফতরে আবেদন করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের গাছতলায় পাঠদান করানো হয়।’
প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, শ্রেণিকক্ষ সংকটে গত চার বছর ধরে গাছতলায় ক্লাস করানোয় শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
শ্রেণিকক্ষ সংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদিরুজ্জামান বলেন, খুব শিগগির ওই বিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা হবে।
/এসএনএইচ/এসটি/








