নাটোরের অ্যাডিশনাল এসপি, ওসিসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ স্থগিত করেছেন জেলা জজ আদালত। রবিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে রিভিশন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন বিচারক শরীফ উদ্দিন।
জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সিরাজুল ইসলাম জানান, রিভিশন আবেদন পেয়ে তা আমলে নেন আদালত। এতে আগের আদেশটি স্থগিতের আদেশ দেন তিনি।
জানা গেছে, এক অটোচালককে কিছু খাইয়ে অচেতন করে অটো চুরির ঘটনায় নাটোরের লালপুর থানায় মামলা করা হয়। ওই মামলায় সন্দেহভাজন একজনকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যে অন্যদের গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার (১২ জুলাই) ওই মামলায় চার আসামিকে আদালতে পাঠালে তিন জন দাবি করেন, বড়াইগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) শরীফ আল রাজিব, লালপুর থানার ওসি মো. উজ্জল হোসেন, এসআই মো. জাহিদ হাসান, ওমর ফারুক শিমুল ও এক কনস্টেবল তাদের নির্যাতন করেছেন।
ওই চার আসামি হলেন- সোহাগ হোসেন, শামীম মোল্লা, সালাম ও রাকিবুল ইসলাম। এর মধ্যে রাকিবুল ছাড়া বাকি তিন জনই থানা হেফাজতে তাদের নির্যাতনের অভিযোগ করেন। আসামিরা আদালতে জানান, হেফাজতে শুধু নির্যাতনই নয়, তাদেরকে গ্রেফতার করে থানায় তিন দিন আটকে রাখার পর আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। আদালতে দেওয়া আসামিদের বক্তব্য ও শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পর্যালোচনা করে তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোসলেম উদ্দীন। তাদের শারীরিক পরীক্ষা করে জেল সুপার ও নাটোর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার মধ্যে মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রস্তুত করে আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন বিচারক।
বৃহস্পতিবার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. সামিউল ইসলামের সই করা মেডিক্যাল রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। ওই রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তিন আসামির মধ্যে সালাম ও শামীমের শরীরে নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা পান আদালত। পরে এই ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদের পদমর্যাদার নিম্নে নয় এমন কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে জেলা পুলিশ সুপারকে আদেশ দেন আদালত।
কিন্তু পুলিশ সুপার মো. সাইফুর রহমান ছুটিতে থাকায় তিন কার্যদিবসের সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সময় মঞ্জুর করেন। আজ ওই মামলা দায়েরের আদেশ স্থগিত করলেন জেলা জজ আদালত।









