বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় নাশকতার প্রস্তুতি, গাড়ি ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে ও আগের মামলায় জামায়াত-শিবিরের ১৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) রাতভর ও বুধবার সকালে ছয়টি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, বগুড়া সদরে নাশকতার প্রস্তুতি, পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জেলা আমিরসহ ছয় জন এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলায় বৈঠককালে আমিরসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছে আটটি ককটেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়। কাহালু, নন্দীগ্রাম, ধুনট ও গাবতলী উপজেলায় আগের মামলায় আট জন গ্রেফতার হলেও তাদের কাছে কিছু পাওয়া যায়নি।
গ্রেফতার নেতাকর্মীরা হলেন- জামায়াতের বগুড়া পশ্চিম জেলা আমির মাওলানা আবদুল হক সরকার, হামিদুল হক তোতা, আসলাম হোসেন বিপু, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মোবারক হোসেন, শিবির নেতা মিকাঈল ইসলাম ও শিবিরের মাজহারুল ইসলাম, জামায়াতের দুপচাঁচিয়া উপজেলা আমির মনছুর রহমান, নায়েবে আমির ওমর আলী, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ফাসিরুল ইসলাম, জামায়াতকর্মী শেখ ফরিদ উদ্দিন, শিবিরকর্মী আবু মুসা, কাহালুর জামায়াত নেতা মাওলানা আবদুল হামিদ, আতাউর রহমান, শাহিনুর রহমান, নন্দীগ্রামের সাবেক আমির রাকিব হোসেন, ধুনট সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির এনামুল হক ও কালেপাড়া ইউনিয়ন আমির বাদশা মিয়া এবং গাবতলীর জামায়াতকর্মী সোহাগ মিয়া ও একরামুল হক।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শরাফত ইসলাম বুধবার বিকালে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে দাবি করেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে খবর আসে রংপুর-ঢাকা দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়কের শাখারিয়া মোড়ে জামায়াত ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করার জন্য সমবেত হয়েছেন। তারা যানবাহন ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল। রাত সোয়া ১টার দিকে সেখানে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
তিনি জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ঘটনাস্থল থেকে জামায়াতের বগুড়া পশ্চিম জেলা আমির মাওলানা আবদুল হক সরকারসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করে। ঘটনাস্থল থেকে চারটি তাজা, পাঁচটি বিস্ফোরিত ককটেল, কাচের ভাঙা টুকরা সাতটি, বাঁশের লাঠি ১০টি ও লোহার রড ছয়টি উদ্ধার করে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, সদর থানার এসআই শহীদুল ইসলাম গ্রেফতার ও পলাতকদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৬/১২ ধারা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। বুধবার তাদের আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, বুধবার সকালে চৌমুহনী বাজারের একটি স’মিলে উপজেলা জামায়াতের আমির মনসুর রহমানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা নাশকতার গোপন বৈঠক করছিল। সেখানে গিয়ে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছে চারটি ককটেল, পাঁচ ব্যাগ পাথর ও লাঠিসোঁটা পাওয়া যায়। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কাহালু থানার ওসি মাহমুদ হাসান জানান, মঙ্গলবার রাতে নাশকতার মামলায় জামায়াত নেতা আবদুল হামিদ, আতাউর রহমান ও শাহিনুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, নাশকতার মামলায় উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির রাকিব হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
ধুনট থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, নাশকতার মামলায় ইউনিয়ন জামায়াত আমির এনামুল হক ও বাদশা মিয়াকে গ্রেফতার হয়েছে।
এ ছাড়া গাবতলী থানার ওসি সনাতন সরকার জানান, পূর্বের নাশকতার মামলার আসামি জামায়াতকর্মী সোহাগ মিয়া ও একরামুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা গেছে, গ্রেফতার আসামিদেরকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বগুড়া শহর জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম আব্দুল মালেক দাবি করেন, বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বগুড়া সেন্ট্রাল হাই স্কুল মাঠে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজার আয়োজন করা হয়। পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় সেটি স্থগিত করা হয়। জানাজা নামাজের আয়োজনের ঘোষণার কারণে পুলিশ মঙ্গলবার রাতে নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়েছে। এ সময় পশ্চিম বগুড়া জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকারসহ শহর ও বিভিন্ন উপজেলা অন্তত ১৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। সদর ও দুপচাঁচিয়ায় ককটেল এবং অন্যান্য সরঞ্জাম পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে। নিরীহ নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসীবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গ্রেফতার নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।









