যমুনার চরে গড়ে উঠেছে মহিষের বাথান

আমিনুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১১:৪৪আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১১:৪৪

সিরাজগঞ্জ, মহিষের বাথান

সিরাজগঞ্জের যমুনার দুর্গম চরে রাখাল, দুগ্ধ ব্যবসায়ী ও ঘোষালরা মহিষের বাথান গড়ে তুলেছেন। চরে গোখাদ্য অর্থাৎ তৃণভূমি থাকায় এ কাজ করছেন তারা। এতে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের ব্যবস্থাও হচ্ছে তাদের। 

চরে রাখালদের থাকার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। তারা ঝুপড়ি ঘর তুলে সেখানে কোনও রকমে গাদাগাদি করে থাকছেন। আড়াই’শ মহিষের বাথানের পাশেই ১৫/২০ জন রাখাল ঝুপড়িতে পেতেছেন তাদের সংসার।

ভোর থেকে শুরু হয় রাখালদের কর্মযজ্ঞ। মহিষের দুধ দোয়ানো, নৌকা করে তা টাঙ্গাইল মিল্কভিটায় পাঠানো এবং মহিষগুলোকে মাঠে চরানো। আর বিকালে আবারও মহিষ চরানো। এর মাঝে কোনও এক ফাঁকে রাখালরা দুপুরের খাবার খেয়ে নেন। রাখালদের সঙ্গে মহাজনের নিয়োগকৃত ঘোষালরাও থাকেন।

সরেজমিনে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গম শিমলা চরে গিয়ে দেখা গেলো রাখালদের মহা কর্মযজ্ঞ। যমুনার তীর ঘেঁষে অস্থায়ীভাবে গড়া বাথানে রাখালরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কথা হয় বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা গ্রামের রাখাল সুধীর ঘোষ, অধির ঘোষ, গোবিন্দ ঘোষ, শ্রীদাম ঘোষ, বিপ্লব ঘোষ, কানু ঘোষ, রাম ঘোষ, জামালপুরের বালিয়াঝারী গ্রামের তোষা ঘোষ, সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার গটিয়ার চরের আব্দুর রাজ্জাক, চর খারুয়ার বাবু প্রামানিকের সঙ্গে।

রাখাল তোষা ঘোষ বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জামালপুরের ১০/১৫ জন চাষীর মহিষ একত্রিত করে বাথান করা হয়েছে। শুকনো মৌসুমের ৮/৯ মাস যমুনার চরে মহিষ পালন করা হয়। বাকি তিন থেকে চার মাস বাড়িতেই মহিষ পালন করা হয়।’

রাখলরা

গটিয়ার চরের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এ বাথানে আমার নিজেরও ১৮টি মহিষ রয়েছে। এছাড়া গরুও আছে ৫টি। আমরা মহিষ চাষিরা একত্রিত হয়ে চরাঞ্চলের জমির পরিত্যক্ত ফসল প্রতি বিঘা ২ থেকে তিন হাজার টাকায় কিনে গরু ও মহিষগুলোকে খেতে দেই।’

গাবতলীর মহিষাবান গ্রামের রশিদ প্রামানিক বলেন, ‘আমাদের বাথানে প্রায় আড়াইশ’ মহিষ ও এক’শ গরু রয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে গাইবান্ধা ফুলছড়ি ঘাট পর্যন্ত প্রায় ২০/২৫টি বাথান রয়েছে।

গাবতলীর দুর্গাহাটা গ্রামের লিটন ঘোষ জানান, প্রতিটি মহিষ দু’বেলায় ৬ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত দুধ দেয়। প্রতি কেজি দুধ ফ্যাট অনুযায়ী ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করা হয়। টাঙ্গাইল মিল্কভিটার নৌকা এসে এসব দুধ নিয়ে যায়।

দুগ্ধ খামারিরা জানান, এখানে কর্মরতর রাখালদের ৮/১০ হাজার টাকা মাসিক বেতন দিতে হয়। এছাড়া গরু-মহিষের খাদ্যের জন্য পরিত্যক্ত ফসল কেনা ও রাখালদের খাবার বাবদ মাসে ৮/১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিটি গরু-মহিষ থেকে মাসে ২০০ কেজি দুধ আসে। যার মূল্য প্রায় ১১ হাজার টাকা। ৮/১০টি মহিষ থেকে খরচ বাদে মাসিক আয় আসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। বছরে প্রতিটি মহিষ একটি করে বাচ্চা দেয়। মহিষ পালন করেই তারা সাবলম্বী হয়েছেন।

এ বিষয়ে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা আরও এগিয়ে যেতে পারবেন বলে জানান।

 

/এসটি/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম