রাজশাহীর স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ফাতেমা সিদ্দিকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বড় ‘অর্থদাতা’ ছিলেন। তিনি জামায়াতকে অর্থের জোগান দিতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজশাহী নগরীর বড়বনগ্রাম এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জায়ামাত-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও তাদের অর্থের জোগানদাতা হিসেবে তথ্য পায় পুলিশ।
শনিবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর শাহমখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগর পুলিশের একটি দল ফাতেমা সিদ্দিকাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। ডা. ফাতেমা সিদ্দিকা জামায়াত ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। জিজ্ঞাসাবাদে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।’
ওসি আরও বলেন, ‘চলতি বছরের মে মাসে শাহমখদুম থানায় বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। জামায়াত-শিবির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও তাদের অর্থের জোগানদাতার অভিযোগেও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। শনিবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামের শুরা সদস্য মাজেদুর রহমান বলেন, ‘ডা. ফাতেমা সিদ্দিকা আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি আমাদের অর্থ দিয়ে সহায়তাও করেন। তাকে কীসের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে তা বলতে পারবো না।’
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে রাজশাহীতে নামডাক রয়েছে ডা. ফাতেমা সিদ্দিকার। মাদারল্যান্ড ইনফার্টিলিটি সেন্টার নামে তার নিজস্ব একটি ক্লিনিকও আছে। গত ৪ এপ্রিল ডা. ফাতেমা সিদ্দিকার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর উপ-কর কমিশনার মহিবুল ইসলাম ভুঁইয়াকে গ্রেফতার করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ নিয়ে দুদক মামলা করে। এ মামলায় মহিবুল এখনও কারাগারে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর ডা. ফাতেমার বাসা থেকে অসামাজিক কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগে ফাতেমার ছেলে নাজমুস সাকিবকে (২৮) গ্রেফতার করে পুলিশ। তার সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছিল এক তরুণীকেও। বাড়িটি থেকে সেদিন মাদকদ্রব্যও জব্দ করা হয়। পরবর্তী সময়ে নাজমুস সাকিব ও ওই তরুণী আদালতে জামিন পান।









