বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে দুই প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন বলে দাবি করা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এর মধ্যে দলীয় মনোনয়ন দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা জাপার অঙ্গ সংগঠন জেলা যুব সংহতির দফতর সম্পাদক রাকিব হাসানের প্রার্থিতা বাতিল করেছেন। আর আবদুল মজিদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।
জানা গেছে, রাকিব হাসান বগুড়া শহরের নাটাইপাড়ার আবদুস সোবহানের ছেলে। তিনি ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারান। গত ৫ মার্চ বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠন জেলা জাতীয় যুব সংহতির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে (রাকিব) সংগঠনের দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বগুড়া-৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
সেখানে জেপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে কাগজপত্র দাখিল করেন। এ ছাড়া আবদুল মজিদ নামে একজন জেপি থেকে প্রার্থী হন। সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে জেপির প্রার্থী হিসেবে রাকিব হাসান ও আবদুল মজিদের নাম দেখা যায়। তবে আবদুল মজিদের মনোনয়নপত্রে দলের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর স্বাক্ষর থাকলেও রাকিব হাসানের ছিল না।
এদিকে একই দল থেকে দুজন প্রার্থিতা দাবি করায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের কাছে ব্যাখ্যা চান। তখন আবদুল মজিদ নিজেকে জেপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও বগুড়া জেলা সভাপতি পরিচয় দেন।
তিনি বলেন, রাকিব হাসান তাদের দলের কেউ নয়। তিনি জেপির মনোনয়ন নিয়ে প্রতারণা করছেন। তাই ওই প্রতারকের বিচার চাই। আর রাকিব হাসান বলেন, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সেটি পরে যুক্ত করা হবে।
এ সময় উপস্থিত জেপির নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে উঠেন। তারা প্রতারণা করায় রাকিব হাসানের মনোনয়ন বাতিল ও তার বিচার দাবি করেন।
তার মনোনয়ন বাতিলের পর রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, কেউ এ নিয়ে মামলা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা যুব সংহতির সভাপতি ও বগুড়া-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুক জানান, রাকিব হাসান তার সংগঠনের (যুব সংহতি) দপ্তর সম্পাদক। বগুড়া-৭ আসনে মনোনয়ন জালিয়াতি ও প্রতারণার কারণে তার বিরুদ্ধে শিগগিরই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









