বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে দীর্ঘ ২২ বছর পর নৌকার প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। প্রার্থী ছিলেন কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন কবিরাজ। প্রথমবারের মতো কাহালু থেকে প্রার্থী দেওয়ায় প্রার্থী এবং দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছিলেন। কিন্তু আবারও ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাসদকে আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় আশাহত হয়েছেন নৌকার প্রার্থী এবং দলের নেতাকর্মীরা।
এ প্রসঙ্গে বঞ্চিত প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল উদ্দিন কবিরাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল। তিনি যা ভালো মনে করেছেন, তাই করেছেন। দলের বাইরে কথা বলার ইচ্ছা নেই। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাহালু থেকে কাউকে নৌকার প্রার্থী করা হয়নি। এবার প্রার্থী দেওয়ায় নেতাকর্মী আশায় বুক বেঁধেছিলেন। এখন তারা আশাহত হয়েছেন। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমাদের সবার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। মনোনয়ন পাওয়ার চেয়ে না পেলেই ভালো হতো।
তবে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই আমাদের সিদ্ধান্ত। তিনি যাকে প্রার্থী করবেন, তার পক্ষেই আমরা কাজ করবো। দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, বগুড়া-৪ আসনটি দীর্ঘদিন জামায়াত ও বিএনপির দখলে ছিল। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নন্দীগ্রামের শহীদুল আলম দুদুকে নৌকার মাঝি করা হয়েছিল। ১৪ দলীয় জোট গঠনের পর থেকে এই আসনের জনগণ আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলার আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, তাদের আসনে জেলা জাসদ (ইনু) সভাপতি একেএম রেজাউল করিম তানসেনকে ছেড়ে দেওয়ায় আমরা শোকাহত। ওই ব্যক্তি আওয়ামী লীগের ভোটে দুবার এমপি হন। কিন্তু কখনও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আপদে-বিপদে পাশে দাঁড়াননি। তিনি (তানসেন) শুধু নিজস্বার্থ দেখেছেন। তার নিজ দলের নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্ধ। নন্দীগ্রাম উপজেলা জাসদ নেতাকর্মীরা গত ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কর্মী সভা থেকে প্রার্থী একেএম রেজাউল করিম তানসনেকে বয়কটের ঘোষণা দেন।
নন্দীগ্রাম উপজেলা জাসদের সভাপতি কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে কর্মী সভায় বক্তব্য রাখেন, জাসদ নেতা শামীম হোসেন, শহীদুল ইসলাম, অনিল চন্দ্র, আব্দুল গাফফার, ফরিদুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, আব্দুল বাছেদ, শাহ আলম, পলাশ চন্দ্র প্রমুখ। তারা বলেন, বিগত সবগুলো জাতীয় নির্বাচনে আমরা তার (তানসেন) পক্ষে ভোট করেছি। তিনি দুবার এমপি নির্বাচিত হলেও কখনও নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেননি। তাই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনও নেতাকর্মী জাসদ প্রার্থী একেএম রেজাউল করিম তানসেনের ভোট করবেন না। এই নির্বাচনে আমরা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবো।
সভা শেষে নন্দীগ্রাম উপজেলা জাসদ সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, আমরা চাই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে হোক। কিন্তু আমাদের দলীয় প্রার্থী একেএম রেজাউল করিম তানসেনের পক্ষে এবার ভোট করবো না। তার নীতি-নৈতিকতার খুব অভাব। তিনি বারবার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। এছাড়া জাসদ নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেননি। এজন্য আমিসহ আমাদের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একেএম রেজাউল করিম তানসেনের ভোট বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া-৪ আসনে জাসদ প্রার্থী জেলা জাসদের সভাপতি তানসেন বলেন, কামরুজ্জামান আমার নেতাকর্মীদের ভুল বুঝিয়েছেন।









