রাজশাহীতে জীবন্ত ঈগল নিয়ে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি। রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া ও দুর্গাপুর) আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ লুনা ফেরদৌস তাকে এই নোটিশ পাঠান। আগামী মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) ওই সমর্থককে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
ওই সমর্থকের নাম কবিরুল ইসলাম। তিনি রাজশাহী-৫ আসনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ওবায়দুর রহমানের সমর্থক।
এর আগে, রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর ও পুঠিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবায়দুর রহমানের পক্ষে জীবন্ত ঈগল পাখি প্রচারণা চালাচ্ছেন তার সমর্থকরা- নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির কাছে লিখিত এমন অভিযোগ দিয়েছেন নৌকা প্রার্থীর সমন্বয়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সাদাম।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবিটি ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার বিকালে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর-পুঠিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ওবায়দুর রহমানের নির্বাচনি প্রতীক ঈগল পাখি। এ প্রার্থীর এক সমর্থক জীবন্ত ঈগল পাখি নিয়ে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেন। একই আসনে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারা।
এতে বলা হয়, গত ২৭ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবায়দুর রহমানের এক সমর্থক কবিরুল ইসলাম জীবন্ত ঈগল পাখি নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিষয়টি নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানার জন্য কবিরুল ইসলামকে ফোন করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে ওবায়দুর রহমানের নির্বাচনি প্রতিনিধি ও দুর্গাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, শোকজের কথা তিনি শুনেছেন।
এ ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান বলেন, কোনও কর্মী-সমর্থক এটা করেছেন কি না, তা তার জানা নেই।
অন্যদিকে রাজশাহী-৫ আসনের নৌকার প্রার্থীর নির্বাচনি প্রতিনিধি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সামাদের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর আরেক কর্মীকে শোকজ করেছে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি। ওই কর্মীর নাম মো. আহসানুল হক। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সিংগা পূর্বপাড়া এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবায়দুর রহমানের একটি নির্বাচনি ক্যাম্পে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর প্রতিবাদ জানিয়ে তার সমর্থকেরা মিছিল করেন। সেই মিছিলে নৌকা প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদকে ‘খুনি’ সম্বোধন করে স্লোগান দেন আহসানুল হক।
নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, আবদুস সামাদ অভিযোগ করেছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ককটেল বিস্ফোরণের পর স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা মিছিল বের করেন। সেখানে আবদুল ওয়াদুদের বিরুদ্ধে অসত্য, মিথ্যা ও মানহানিকর স্লোগান দিয়ে মিছিল করা হয়। মিছিলে তাকে ‘খুনি দারা’, ‘খুনি দারা’ স্লোগান দেওয়া হয়, যা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের সামিল। এ জন্য আগামী মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী আহসানুল হককে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে আহসানুল হক বলেন, তারা সব সময়ই আবদুল ওয়াদুদকে ‘খুনি’ বলেই সম্বোধন করে থাকেন। তিনি যখন সংসদ সদস্য ছিলেন, তখন তার এলাকায় বাড়ির কাছে বেশ কয়েকটি খুন হয়েছে। এলাকাবাসীসহ তিনি মনে করেন, এটা তার ছত্রছায়ায় হয়েছে। আবদুল ওয়াদুদও তাদের নানা ধরনের গালি দিয়ে থাকেন।









