অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহাদত আলী শাহুর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই অভিযোগে তার স্ত্রী নাজমা আলীর বিরুদ্ধেও আলাদা আরেকটি মামলা করা হয়েছে।
রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) দুদকের সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ে দুই জনের বিরুদ্ধে আলাদা দুইটি মামলা করা হয়।
দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দুটি করেছেন। মামলা দুটির আসামি শাহাদত আলী শাহু ও নাজমা আলী নগরীর উত্তর নওদাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ওই এলাকায় দুই জনের নামেই বেশ কয়েকটি বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। রাসিকের সবচেয়ে ধনী কাউন্সিলর এই শাহাদত আলী শাহু।
দুদক জানিয়েছে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়ে কাউন্সিলর শাহু ও তার স্ত্রী নাজমা আলীর বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। একপর্যায়ে দুই জনকে তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে কাউন্সিলর শাহু তার নামে ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৫৩ হাজার ৫০৪ টাকার এবং নাজমা তার নামে এক কোটি ৯৬ লাখ ৫৪ হাজার ৩৭৬ টাকার সম্পদ দেখান।
তবে অনুসন্ধানে দুদক দেখে, শাহুর নামেই ১১ কোটি ৯৩ লাখ ১৫ হাজার ৫০৪ টাকার এবং তার স্ত্রী নাজমা আলীর নামে দুই কোটি ৩৬ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৬ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আছে।
এক্ষেত্রে শাহু দুই কোটি ২৪ লাখ ৬২ হাজার এবং তার স্ত্রী নাজমা ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ২৪৯ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন। তথ্য গোপন করে তারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
দুদক আরও জানায়, মোট সম্পদের মধ্যে কাউন্সিলর শাহুর সাত কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৩ টাকার সম্পদই তার আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। আর তার স্ত্রীর আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ আছে এক কোটি ছয় লাখ ছয় হাজার ৯২৬ টাকার। অর্থাৎ মোট সম্পদের বড় অংশই তারা অবৈধ পন্থায় অর্জন করেছেন। এতে তারা দুদক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। দুটি মামলাতেই দুই জনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং দুদকের কাছে তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের এই মামলার বিষয়ে কথা বলতে কাউন্সিলর শাহুর মোবাইলে কল করলে তার অফিসের কর্মচারী মো. রিপন ফোন ধরে বলেন, কাউন্সিলর এখন অফিসে নেই। কথা বলা যাবে না।









