বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়ায় সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল মার্কার পক্ষে নারী ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের সময় স্থানীয় জনতা শহর জাতীয় পার্টির সভাপতিসহ দুজনকে আটক করেছে। শনিবার (৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করা হয়।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুকান্ত সাহা তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা নিতে সদর থানার কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ চন্দ্র সরকার এ তথ্য দিয়েছেন।
এর আগেও স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল মার্কার সৈয়দ কবির আহমেদ মিঠু ও তার ভাই জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ সার্জিল আহমেদ টিপুর বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক ভোটারের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগ উঠেছিল।
নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. জাহিদুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে সুপারিশ করেন।
গ্রেফতার দুজন হলেন বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকার মৃত নুরুল ইসলাম আকন্দের ছেলে শহর জাতীয় পার্টির সভাপতি আবু তাহের ও একই এলাকার আনিছুর রহমানের ছেলে জাপা কর্মী দেবেক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাপা নেতা আবু তাহের ও কর্মী দেবেক শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের উত্তর চেলোপাড়ায় লায়ন কমিউনিটি সেন্টারে সমবেত নারীদের কাছে সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ কবির আহমেদ মিঠুর ঈগল মার্কার পক্ষে ভোট কিনছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা ঈগল মার্কার কর্মী আবু তাহের ও দেবেককে আটক করে প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ চন্দ্র সরকারের কাছে সোপর্দ করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ চন্দ্র সরকার জানান, ঈগল মার্কার প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের সময় আটক দুজনকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুকান্ত সাহার আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা নিতে সদর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শীরা মামলা করবেন।
বগুড়া সদর থানার ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ জানান, ম্যাজিস্ট্রেট আটক দুজনকে কিছু সময়ের জন্য থানা হাজতে রেখেছিলেন। দুপুরে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর বেশি আমাদের কিছু জানা নেই।
তবে সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঈগল) সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, আটক দুই ব্যক্তিকে তিনি চেনেন না; ওরা প্রতারক।








