বগুড়ার ধুনট উপজেলায় চিকাশী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন বিক্রির অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা আলেফ বাদশাহ’র বিরুদ্ধে। তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোটে দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত হলেও বগুড়া শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক নাজমুল কাদির শিপনকে নির্বাচন করার সুযোগ দিচ্ছেন। এ ঘটনায় ভোটার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।
চিকাশী ইউনিয়নের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণে গত ১ মার্চ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলেফ বাদশাহ্ ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল দলীয় মনোনয়ন চান। তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোটে প্রার্থী চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আলেফ বাদশাহ্ ৩৬ ভোট পেয়ে দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত হন। কামরুজ্জামান কাজল ৩৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
কামরুজ্জামান কাজলের অভিযোগ, আলেফ বাদশাহ্ নির্বাচনে অংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার কথা। বগুড়া শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল কাদির শিপন বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোটে অংশ নেননি। তারপরও তাকে দলীয় প্রার্থী করা হচ্ছে। আলেফ বাদশাহ্ টাকার বিনিময়ে শিপনের কাছে দলীয় মনোনয়ন বিক্রি করেছেন। গত সোমবার জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে তিনি (বাদশাহ্) নির্বাচন থেকে সরে গেছেন।
এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলেফ বাদশাহ্। তিনি বলেন, তার ইউনিয়নে এখনও চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। কেন্দ্র তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন।
নাজমুল কাদির শিপন বলেন, আলেফ বাদশাহ্ তার ভাই হন। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন। তাই তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে মনোনয়ন কেনার কোনও ঘটনা ঘটেনি।
ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল হাই খোকন সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনও অভিযোগ পায়নি। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোটে যারা দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছেন তারাই মনোনয়ন পাবেন।
/এসটি/








