বগুড়া পৌরসভায় বৃহস্পতিবার দুপুরে প্যানেল মেয়র মনোনীত করা হয়েছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা শ্রমিক লীগ নেতা অষ্টম শ্রেণী পাস সামছুদ্দিন শেখ হেলাল ১ নম্বর, স্নাতক পাস দাবিদার আমিনুল ইসলাম ২ নম্বর এবং এসএসসি পাস নিলুফা কুদ্দুস ৩ নম্বর প্যানেল মেয়র হয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, হুমকিসহ নানা কারণে প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভায় শিক্ষিত কাউন্সিলররা প্যানেল মেয়র হওয়ার সুযোগ পাননি। এতে তাদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্ট হলেও ক্ষমতাসীনদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস করেননি বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাউন্সিলর জানান, স্বাধীনতার পর এই প্রথম অশিক্ষিতরা প্যানেল মেয়র হলেন। আড়াই লক্ষাধিক ভোটারের এ পৌরসভায় প্যানেল মেয়রকে নাগরিকত্ব, মৃত্যু, ওয়ারিশ সনদপত্র, ছবিসহ কাগজপত্র সত্যয়িত করাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজে স্বাক্ষর দিতে হয়। কিন্তু অশিক্ষিতরা প্যানেল মেয়র হওয়ায় নাগরিকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি আরও জানান, ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে যুবলীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা অর্থের বিনিময়ে ও আত্মীয়তার সুবাদে কয়েকজনকে নির্বাচিত করতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ঢুকে প্রকাশ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত করেন।
যুবলীগের ওইসব নেতা ও তাদের নিয়োজিত ক্যাডাররা নিজ দলের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টুর পরিবর্তে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাহবুবর রহমানকে ভোট দেয়। মনোনয়ন বাণিজ্যে ও পেশিশক্তির কারণে অনেক ওয়ার্ডে শিক্ষিত এবং ভালো প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।
১ নম্বর সংরক্ষিত আসনের সাবেক কাউন্সিলর জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ডালিয়া খাতুন রিক্তা অভিযোগ করেন, যুবলীগের কতিপয় নেতা তাকে পরাজিত করতে মাঠে নামেন। তারা বিএনপি নেত্রী নিলুফা কুদ্দুসের পক্ষে ভোট ডাকাতি করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাকে অবিশ্বাস্যভাবে আট হাজার ভোটে পরাজিত করা হয়েছে। ভোটাররা বাড়িতে এসে দুঃখ প্রকাশ করছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া পৌরসভা মিলনায়তনে প্যানেল মেয়র নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। শুধু ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন শেখ হেলাল, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম ও ১ নম্বর সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর বিএনপি নেত্রী নিলুফা কুদ্দুস প্রার্থী হন।
নির্বাচনের হলফনামায় ১ নম্বর প্যানেল মেয়র অষ্টম শ্রেণী, ২ নম্বর প্যানেল মেয়র স্নাতক এবং ৩ নম্বর প্যানেল মেয়র এসএসসি পাস উল্লেখ করেছেন। ২ নম্বর প্যানেল মেয়র আমিনুল ইসলাম ডিগ্রি পাস দাবি করলেও হলফনামায় সনদপত্র দেননি, শুধু প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৯১ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের চাপড়িগঞ্জ মাদ্রাসা থেকে ফাজিল এবং পরের বছর দিনাজপুরের দাউদকান্দি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেছেন।
/এইচকে/








