বগুড়ায় কারাগারে অসুস্থ আ.লীগ নেতাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু

বগুড়া প্রতিনিধি
২৬ নভেম্বর ২০২৪, ২২:১৭আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ২২:১৭

বগুড়া জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত আলম ঝুনু মারা গেছেন। পুলিশের হেফাজতে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় নেওয়ার পথে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জে তার মৃত্যু হয়। বগুড়া কারা কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শাহাদত আলম বগুড়া পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর অধ্যক্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। জেলা আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাসহ পাঁচটি মামলা আছে। গত ২৫ আগস্ট রাতে শহরের মালতিনগর মোল্লাপাড়া এলাকার বাসা থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেই থেকে কারাগারে ছিলেন তিনি।

কারাগার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসকরা জানতে পারেন, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। পুলিশের হেফাজতে রেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় নেওয়ার পথে সিরাজগঞ্জে পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়।

বগুড়া কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক ফারুক আহমেদ বলেন, ‌‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাহাদত আলম অসুস্থবোধ করলে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।’

হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ‘এখানে আনার পর প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে শাহাদত আলম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। অ্যানজিওগ্রামসহ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।’

অ্যাম্বুলেন্সে শাহাদত আলমের সঙ্গে থাকা বন্ধু ফিরোজ হামিদ খান বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে পুলিশের হেফাজতে অ্যাম্বুলেন্সে সড়কপথে ঢাকায় নেওয়ার পথে শাহাদতের অবস্থার অবনতি ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সিরাজগঞ্জের এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয় পুলিশ। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষক সেলিম হোসেন (৩৫) নিহতের ঘটনায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ১০১ জনকে আসামি করে তার বাবা সেকেন্দার আলী ১৬ আগস্ট সদর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলার এজাহারনামীয় ১০০ নম্বরের আসামি ছিলেন শাহাদত। অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে এক রিকশাচালক নিহতের ঘটনায় করা আরেক মামলার আসামি ছিলেন তিনি। আর নিহত কমর উদ্দিনের স্ত্রী তহমিনা বেগমের করা আরেকটি মামলার ২৭ নম্বর আসামি ছিলেন শাহাদত। পরে তাকে আরও দুটি মামলায় আসামি করা হয়।

সদর থানার উপপরিদর্শক আবদুর রহিম বলেন, ‘৫ আগস্টের পর শাহাদত আলমের বিরুদ্ধে সদর থানায় তিনটি হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলা করা হয়। সর্বশেষ গত রবিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।’

 

/এএম/
সম্পর্কিত
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
মুক্তি পেলেন সাবেক মেয়র আইভী
ডাকবাংলোতে মা ও দুই শিশুসন্তানের লাশ, কীভাবে হলো মৃত্যু?
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম