বগুড়ায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় যুবলীগ কর্মী নিহত

বগুড়া প্রতিনিধি
০৩ এপ্রিল ২০১৬, ২০:২১আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৬, ২০:৩৫

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাঠানপাড়া গ্রামে খাস বিলের জমির ধানকাটা নিয়ে বিরোধ ও ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় প্রতিপক্ষের হামলায় লিটন মিয়া (২৬) নামে এক যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। ওই গ্রামের বিজয়ী ও পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ওই কর্মী শনিবার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে মারা যান। 

আহতদের ক’জন হলেন মিঠু (২২), সাহেব আলী (৩৪), ঠান্ডা মিয়া (৩৫), মিনহাজুল (২৮), আছমা বেগম (২৮), তরিকুল ইসলাম (২৬), মোমেনা বেগম (২৬), আজাদ (২২), জবেদ আলী (৪৫), টুকু মিয়া (৪৫), শায়েন আলী প্রামানিক (৫৫), জয়নাল শাহ (৫০), ছমির উদ্দিন (৫০)। তাদের শজিমেক ও সোনাতলাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হত্যাপুলিশ জানায়, সোনাতলা উপজেলার পাঠানপাড়া গ্রামে পাল বাইশা খাস বিলের জমির মালিকানা নিয়ে ব্যাপারী ও মিয়া পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়েছে। গত ৩১ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে সোনাতলা উপজেলার ছয় ইউনিয়নে ভোট হয়। দিগদাইড় ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে সদস্য পদে ব্যাপারী পক্ষ থেকে মোজা আকন্দের ছেলে সেলিম হোসেন এবং মিয়া পক্ষ থেকে মৃত আজগর আলীর ছেলে আবদুস সামাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে মিয়া পক্ষের সামাদ জয়লাভ করেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকালে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে বিজয়ী সদস্য সামাদ ও তার লোকজন পাল বাইশা বিলের জমিতে থাকা সেলিমের লাগানো কাঁচা ধান কাটতে শুরু করেন। তখন পরাজিত সদস্য সেলিম ও তার লোকজন বাধা দেন। এতে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত দু’পক্ষের লোকজন দুপুর পর্যন্ত দু’দফা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। তারা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ওই সময় বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।

খবর পেয়ে সোনাতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ব্যর্থ হলে ২৫ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরে বগুড়া থেকে সিনিয়র এএসপি (এ সার্কেল) সাব্বির আহম্মেদ সরফরাজের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ গ্রামে অভিযান চালালেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

সহিংসতা এড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান শনিবার বেলা ১টা থেকে রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত পাঠানপাড়া গ্রামে ১৪৪ ধারা জারি করেন।

আহতদের মধ্যে দিগদাইড় ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামের জিন্নাত আলী আকন্দের ছেলে ও ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য লিটন মিয়া শনিবার রাত ১২টার দিকে শজিমেক হাসপাতালে মারা যান।

সোনাতলা থানার ওসি আবদুল মোতালেব জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যাপারী পক্ষের লিটন নামে একজন মারা গেছেন। আহত কয়েকজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া সকাল ১০টায় ১৪৪ ধারা উঠে গেছে।

ওসি আরও জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে তিনি দাবি করেন, এটি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা নয়; বিলের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।

 

/বিটি/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের