বগুড়ার নন্দীগ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুই দলের নেতারা। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন। তিনি নন্দীগ্রাম থানার ওসি ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করছেন।
পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই আসনে জামায়াত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। তার নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিচার চেয়েছেন।
বগুড়া-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে থানার ওসি ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা (ইউএনও) অপসারণ দাবি করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে নন্দীগ্রামের পারশুন গ্রামে ‘ভোট কেনাবেচাকে’ কেন্দ্র করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ও তার ভাই গুরুতর আহত হন। এ সময় বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বগুড়ার মতো জায়গায় এমন ঘটনা হলে অন্য স্থানে কী হতে পারে তা নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা সময়মতো পদক্ষেপ নেয়নি।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আহত বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ছেলে সিয়াম আকন্দ। এতে অভিযোগ করা হয়, ওই হামলার ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের ২০ জনের নাম
উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বিচার দাবি করা হয়েছে। বাবার অবস্থা ভালো না, চোখে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন ছাড়াও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সহ-সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে। প্রশাসন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা।
পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বিএনপি প্রার্থীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন, সোমবার রাতে নন্দীগ্রামে ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ভুস্কুর গ্রামে চোখ হারানো ‘জুলাইযোদ্ধা’ আবদুল্লাহেল গাবিল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা লুৎফর মেম্বরের নেতৃত্বে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। গালিব রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া একইদিনে থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মী ফারুক হোসেন প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তখন বিএনপির কুখ্যাত সন্ত্রাসী মাসুদ রানা বাহিনীর নেতৃত্বে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ ছাড়া মাসুদের বাড়িতে তাকে বেঁধে রাখা হয়। পরে পুলিশকে জানালে দ্রুত কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। খবরটি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে (ফারুক) উদ্ধার করতে যান। তখন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ বাহিনী আবারও হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হন। তিনি প্রকৃত ঘটনা তদন্তে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে, বগুড়া শহর জামায়াতের আমীর ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল, সেক্রেটারি আ স ম আব্দুল মালেক, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাকিম, শ্রমিক নেতা আজগর আলী, শহর শিবিরের সভাপতি হাবিবুল্লাহ খন্দকার, আব্দুস ছালাম তুহিন, এনামুল হক রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।








