চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পাগলা নদীর ওপর প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মইন উদ্দিন আহমদ মন্টু সেতুর কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। এখনও প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ বাকি।
ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও বর্ষাকে কারণ দেখিয়ে পাঁচ মাস ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে কাজ। এর আগেও তিন দফা কাজ বন্ধ হয়েছিল। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনও বেইলি সেতু ব্যবহার করে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মনাকষা, বিনোদপুর ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের প্রায় চার লাখ মানুষ।
ব্যবসায়ীদের ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার ঘুরে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী এবং রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, পল্লি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ১৭২ দশমিক ৩০০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৯৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩১৫ টাকা। ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৪ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা। তবে নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
জানা যায়, নির্মাণাধীন সেতুর পাশেই রয়েছে বহু পুরোনও একটি বেইলি সেতু। সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তিন বছর আগে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেতুর প্রবেশমুখে ইটের পিলার বসিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৯১-৯২ সালে বেইলি সেতু নির্মাণের সময় দুই একর ৬৫ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। বর্তমানে নতুন সেতুর সংযোগ সড়কের জন্য আরও কিছু জমির প্রয়োজন হয়েছে। এ নিয়ে অন্তত ১৪টি পরিবারের বাড়ি উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনও তা শেষ হয়নি। ফলে সংযোগ সড়কের কাজও শুরু করা যাচ্ছে না।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের মার্চে কয়েক দফায় উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশপ্রাপ্তরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান। এরপর থেকে পুরো বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে রয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. গোলাম আজম বলেন, ‘একদিকে প্রশাসন বলছে, বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে ভুক্তভোগীরা দাবি করছেন, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। এই জটিলতা নিরসন না হওয়ায় তিন ইউনিয়নের মানুষ মহাদুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।’
সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. সাহিন আলম বলেন, ‘ঠিকাদার পালিয়ে গেছেন–এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে বন্যা, বর্ষা এবং ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণেই কাজ বন্ধ রয়েছে। জটিলতা মিটলেই কাজ শুরু হবে। জমি-সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান হলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষার কারণে নদীর মাঝের গুরুত্বপূর্ণ পিলারের কাজ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি এখনও বুঝে পাওয়া যায়নি। জমি অধিগ্রহণ ও উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে।’
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হারুণ অর রশিদ বলেন, ‘সরেজমিনে মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যাও নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে এক জেলার ৫৮৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়







