ছিমছাম গোয়ালঘর। ঘরে গরুও রাখা আছে। এই ঘরের সঙ্গেই আরও একটি গোপন কক্ষ। ইন্টারনেট সংযোগ সংবলিত ঘরটি শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত। সেই ঘরে বসেই হ্যাকিংয়ের কাজ করতো প্রতারক চক্রটি।
এই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে গোয়ালঘরটির গোপন কক্ষে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ বলছে, নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মহারাজপুর মধ্যপাড়া গ্রামে হ্যাকার চক্রের হোতা সাগর আহম্মেদের বাড়ি। মঙ্গলবার ওই বাড়ির উত্তর পাশের টিনশেড গোয়ালঘরে অভিযান চালায় পুলিশ। গোয়ালঘরের ভেতরে থাকা ঘরটিতে বসে হ্যাকিংয়ের কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন চার যুবক। পুলিশ তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল এবং নগদ ৩১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডি হ্যাক করে নারী সেজে প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতো।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. বাবুল আহম্মেদ (২৮), মো. ওমর ফারুক (১৯), মো. সাব্বির হোসেন ওরফে শান্ত (২২) এবং মো. মাহফুজ হোসেন (২১)। তারা সবাই লালপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দিয়ে মঙ্গলবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, চক্রের মূলহোতা সাগর আহম্মেদের বাড়ির গোয়ালঘরটি বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। ভেতরে গরুও রাখা আছে। আথচ ঘরটির গভীরে গিয়ে আরও একটি গোপন কক্ষের সন্ধান মেলে। ওই ঘরে এসি লাগানো ছিল। টাইলসের মেঝের ওই ঘরে ইন্টারনেট সংযোগও ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ইমো আইডি হ্যাক করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করতো। থানার রেকর্ড বলছে, এদের মধ্যে বাবুল আহম্মেদের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
লালপুরে ইমো হ্যাকিং চক্রের ইতিহাস পুরনো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইমোতে নারীকণ্ঠে কথা বলে প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়মিত প্রতারণা করা দুই জনকে সোমবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
সোমবার দুপুরে নাটোরের লালপুর উপজেলার দূরদুরিয়া ইউনিয়নের যোতগৌরি পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে সোহেল রানা (১৯) ও রাজিব আলীকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা একই এলাকার বাসিন্দা।
গ্রেফতারের পর চক্রের হোতা সোহেল রানা পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়ে জানান, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার এক হ্যাকারের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকায় ইমো হ্যাকিং শিখেছেন। এখন ইমোর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে নারী কণ্ঠে কথা বলেন তিনি এবং চক্রের অন্য সদস্যরা। এক পর্যায়ে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর নিয়ে স্ক্রিন শেয়ারের মাধ্যমে প্রতারণা করতেন। নারী সেজে টাকা হাতিয়ে নিতেন।
পুলিশ বলছে, নাটোরের লালপুর উপজেলায় ইমো হ্যাকিংয়ের সংঘবদ্ধ একাধিক চক্র রয়েছে। ওই চক্রের সদস্যরা নিয়মিত অনলাইনের মাধ্যমে প্রবাসীদের সঙ্গে নানা কৌশলে প্রতারণা করে আসছেন। সোমবার দুপুরে চক্রের সদস্য সোহেল রানা ও রাজিব আলীর বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এক পর্যায়ে তাদের দুই জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় ইমো হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জাড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন গ্রেফতার দুই জন।
তাদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ব্যবহার করে এসব চক্র প্রতারণা করে আসছে। এই চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে বহু প্রবাসী নিঃস্ব হচ্ছেন। এদের গ্রেফতার করতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।









