শীতের সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে। তবে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় দাম এখনও চড়া। রাজশাহীর বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ১৬০ টাকা, শিম ১৪০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা ও ফুলকপি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শীতের সবজির বৈচিত্র্য বাড়লেও চড়া দামে পছন্দের সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে নগরীর সাহেববাজার মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে কয়েকটি সবজির দাম এখনো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।
বাজারে প্রতি আঁটি পুঁইশাক ১০ টাকা, লালশাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি আলু ২০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, পটল ৪০ টাকা, কচু ৪০ টাকা, ওল ৪০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, সাদা বেগুন ৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ফুলকপি প্রতি পিস ৮০ টাকায়, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৩০ টাকা ও লাউ প্রতি পিস ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রতি কেজি লাল বেগুন ১০০ টাকা, রসুন ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, শিম ১৪০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা ও টমেটো ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা ক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাজারে শীতের সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে দাম এখনও কমেনি। কিছু সবজি কম দামে পাওয়া গেলেও কয়েকটির দাম বেশ চড়া। ফলে সব ধরনের সবজি একসঙ্গে কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
সবজি বিক্রেতা আলাউদ্দিন বলেন, ‘শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে এখনও সরবরাহ পুরোপুরি বাড়েনি। তাই কিছু সবজির দাম বেশি। সামনে সরবরাহ বাড়লে দামও কিছুটা কমতে পারে।’
ব্যবসায়ীদের মতে, মৌসুমের শুরুতে শীতকালীন সবজির সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় কয়েকটির দাম বেশি রয়েছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে। তবে আপাতত শীতের সবজির বৈচিত্র্য বাড়লেও চড়া দামে বাজারে স্বস্তি ফিরছে না।
এদিকে আগাম সবজি চাষে ঝুঁকি থাকলেও লাভের আশায় এবার আবাদ বাড়িয়েছেন রাজশাহীর পবার কৃষক মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আগাম সবজি চাষে বিঘাপ্রতি প্রায় ২ হাজার কপি নষ্ট হয়। তবে সময়মতো বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়। গতবার লাভ হওয়ায় এবার বড় পরিসরে চাষ করেছি।’
চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমির ফুলকপি ও সাড়ে চার বিঘা জমির বাঁধাকপি বিক্রি করেছেন মোশাররফ। প্রতি পিস কপি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কখনো ৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে বিঘাপ্রতি প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ হয়েছে বলে জানান তিনি। আরও ২৫ বিঘা জমিতে কপি চাষ করেছেন মোশাররফ।
আগাম সবজি চাষে লাভের আশায় রয়েছেন আলিমগঞ্জের কৃষক নজরুল ইসলামও। এবার ১২ কাঠা জমিতে ৪ হাজার পিস আগাম বাঁধাকপি চাষে তাঁর খরচ হয়েছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ২০০ পিস ৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। বাকি কপি বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ টাকা আয় এবং খরচ বাদে ৮০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
গত বছর পাঁচ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করে প্রায় ৫ লাখ টাকা লাভ করেছিলেন নজরুল। এবার কৃষি বিভাগের পরামর্শে ১০ কাঠা জমিতে আগাম টমেটো চাষ করেছেন।
রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর, হরিয়ান, দামকুড়া, পারিলা, বড়গাছী, নওহাটা ও পাইকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, গাজর, বেগুন, লাউ ও শাকসবজির আবাদ হচ্ছে। পাইকপাড়ার কৃষক মিজানুর রহমান দেড় বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করেছেন।
পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য অংশ আগাম সবজি। কৃষকদের আগাম সবজি চাষে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি জৈব বালাইনাশক ব্যবহার ও অনুমোদিত মাত্রায় রাসায়নিক বালাইনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রাজশাহীর উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আগাম সবজির আবাদ ২০০ হেক্টর বেড়েছে। শীতকালীন সবজির স্বাভাবিক সরবরাহ শুরু হওয়ার আগেই বাজারে ফসল তুলে বাড়তি দাম পাওয়ার আশায় আগাম চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা।