তৃতীয় দফায় অনুষ্ঠেয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাধা, হামলা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দবি জানিয়েছে নাটোর সদর উপজেলা বিএনপি। অন্যথায় নির্বাচন বর্জনের হুমকি দিয়েছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের আলাইপুর এলাকায় জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রহিম নেওয়াজ। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অনুসারী ক্যাডারবাহিনী বিএনপি প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনায় বাধা দিয়ে আসছে। সশস্ত্র ক্যাডারদের হুমকি-ধামকি আর হামলার কারণে প্রার্থীরা প্রচারণায় বের হতে পারছেন না।
তিনি বলেন, গত ১৫ এপ্রিল মদনহাট, তেলকুপি এলাকায় এবং ১৭ এপ্রিল চন্দ্রকোলা এলাকায় বিএনপি প্রার্থী মাইকিং বের করলে আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী তাতে হামলা চালায়। এ সময় তারা মাইকিং করার ব্যাটারিসহ, গাড়িচালকের মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুট করে যা এখনও ফেরত পাওয়া যায়নি। বর্তমানে বিএনপি ভোটার ও এজেন্টদেরকেও তারা হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সদর থানার ওসি এবং নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে সাতটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও কোনও প্রতিকার পাওয়া যায়নি। সরকারি দলের ক্যাডার বাহিনীর পাশাপাশি কিছু পুলিশ সদস্যও তাদের অনুসারীদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের যে পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে তাতে ভোটের আগের রাতেই ভোট হয়ে যাবে। এ অবস্থায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব সশস্ত্র ক্যাডারদের অস্ত্র উদ্ধার, অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে তারা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেবেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রহিম নেওয়াজসহ বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
/বিটি/টিএন/
আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান সেই নির্যাতিত গৃহবধূ ববিতা








