রংপুরের বেশির ভাগ এলাকায় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। কারণ রংপুর কৃষি অঞ্চলের অধীন ৮ জেলার কৃষকদের তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তালিকা তৈরিতে সরকারি দলের খবরদারিসহ দলের লোকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা। ফলে ৫ মে থেকে ধান ক্রয় কার্যক্রম কাগজে-কলমে শুরু হলেও বাস্তবে গত ২৭ দিনে মাত্র ৪ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনা সম্ভব হয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে দলীয়করণ বন্ধ করে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার দাবিতে রাস্তায় ধান ফেলে প্রতিবাদ ও খাদ্য অফিস ঘেরাওসহ নানা আন্দোলন করছে রংপুরের কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার রংপুর অঞ্চলে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হওয়া ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রায় ২১ লাখ টন চাল উৎপাদিত হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
খাদ্য বিভাগ এবার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার ঘোষণা দেন। রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৮ জেলা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৭১৭ মেট্রিক টন ধান কেনার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে দিনাজপুর জেলায় ২৪ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন, ঠাকুরগাঁও জেলায় ৮ হাজার ২৪৮ টন, পঞ্চগড়ে ৪ হাজার ৬৪৯ টন, লালমনিরহাটে ৮ হাজার ১৭৮ টন, নীলফামারী জেলায় ১২ হাজার ৬৩৮ টন, রংপুরে ১৯ হাজার ৮১৬ টন, কুড়িগ্রাম জেলায় ১৬ হাজার ১৩৫ টন এবং গাইবান্ধা জেলায় ১১ হাজার ২১৭ টন ধান কেনার ব্যাপারে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১২ দফা নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে উপজেলা পর্যায়ে সংগ্রহ ও মনিটারিং কমিটি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা, উৎপাদন ও সম্ভাবনার দিক বিবেচনা করে ইউনিয়ন অনুযায়ী তালিকা করবে। সেই অনুযায়ী স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার দেওয়া তালিকা থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কৃষককে নির্বাচন করা হবে এবং তাদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করার লক্ষ্যে নীতিমালা অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৯২০ টাকা মন দরে ধান কেনা হবে। ৫ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত এই ধান কেনা চলবে বলে জানানো হয়। তবে কোনও কারণে ধান কেনা শেষ না হলে, চাল সংগ্রহের পাশাপাশি ধান সংগ্রহও চলবে বলে জানানো হয়।
এ ব্যাপারে কৃষক সমিতির নেতা শাহিন রহমান ও আব্দুল কুদ্দুস অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের চাপে ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে এখনও ধান কেনা শুরু হয়নি। কৃষি বিভাগের কাছে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা আছে। বেশির ভাগ কৃষককের নামে কৃষি কার্ড আছে। তারা চাইলে ওই তালিকা চূড়ান্ত করতে পারতেন।
এদিকে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে ধান কেনা না হলে, তারা পানির দামে ধান বিক্রি করে দেবেন। এক্ষেত্রে লাভবান হবেন দালাল ও ফরিয়া মহাজনরা। ফলে আগামী মৌসুমে বোরো ধান চাষে উৎসাহ হারাবেন কৃষকরা।
রংপুর কৃষি অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক স ম আশরাফ আলী জানান, এরইমধ্যে ৮০ ভাগ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে, দ্রুতই তা শেষ করা হবে।
অন্যদিকে রংপুর বিভাগীয় খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লা আল মামুনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে, তাছাড়া এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, বেশির ভাগ জায়গায় ৫ থেকে ১০ টন ধান কিনে ধান ক্রয় কর্যক্রম শুরু দেখানো হয়েছে। খোদ রংপুর সদরেই একদিনে ১৫ টন ধান কেনার পর থেকে এই কর্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পুরো জেলায় মাত্র ৯৪ টন ধান কেনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নির্বাচিত হলেও গেজেটে নাম আসেনি ইউপি সদস্যের
/জেবি/এএইচ/
/আপ: এইচকে/








