হিল্লা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় নুর ইসলামের স্ত্রী শিরিনা বেগমসহ তার পুরো পরিবারকে প্রায় দুবছর ধরে এলাকার ‘ফতোয়া দানকারী’ ব্যক্তিরা একঘরে করে রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের নগর বড়াইবাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। তাদের হাট বাজারে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ছেলেকে মাদ্রাসায় লেখাপড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি মসজিদে নামাজ পড়তে দেওয়া হচ্ছে না। স্বজন মারা গেলে জানাজায় অংশ নেওয়াসহ তাকে মাটি পর্যন্ত দিতে দেওয়া হয়নি। ফতোয়াবাজদের অত্যাচারে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে পুরো পরিবার।
সরজমিন পরিদর্শনে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বললে নুর ইসলাম জানান, তাকে না জানিয়ে সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে টাকা পরিশোধ করা বিষয়ে স্ত্রী শিরিনা বেগমের সঙ্গে তার বচসা হয়। এই সময় রাগান্বিত হয়ে ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর স্বামী নুর ইসলাম তার স্ত্রী শিরিনা বেগমকে মৌখিক তিন তালাক দেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় মসজিদের ইমামসহ স্থানীয় কয়েকজন মোড়ল ঘোষণা দেয় স্ত্রী শিরিনা বেগমকে অন্যত্র হিল্লা বিয়ে না দিলে তাকে নিয়ে ঘর সংসার করতে পারবে না স্বামী নুর ইসলাম।
ইসলামী আইন অনুযায়ী একবারে ৩ তালাক দেওয়া হলে তালাক হয় না এবং এর জন্য হিল্লা বিয়ের কোনও বিধান নেই বলে জানান নুর ইসলাম।
এই ব্যাপারে ঘটনা স্থল নগর বড়াইবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে এক ঘরে রাখা নুর ইসলামের বাড়িটাও কেউ দেখিয়ে দিতে চাচ্ছেন না ফতোয়াবাজদের ভয়ে। পরে ফতোয়াবাজির শিকার নুর ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল দীর্ঘ ২ বছর ধরে তারা মানবেতরভাবে দিন কাটাচ্ছে।
নুর ইসলাম জানান, রাগের মাথায় স্ত্রীকে তালাক দেবার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় নগর বড়াইবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম আব্দুস সাত্তার ফতোয়া জারি করেন, যেহেতু স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন আইনগত ভিত্তি থাক না থাক তাকে অন্য পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দিতে হবে। তা না হলে তার সঙ্গে সংসার করা যাবে না। আর এ ফতোয়া না মানলে পুরো পরিবারকে এক ঘরে করে রাখা হবে। তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন ওই মসজিদের মোতয়াল্লী আব্দুর রাজ্জাক, মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মশিউর রহমান ও এলাকার মাতব্বর মোতালেব।
নুর ইসলাম আরও জানান, তার তিন ছেলে স্কুলে পড়ে। বড় ছেলে কাইয়ুম মাদ্রাসায় দশম শ্রেণির ছাত্র। তাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঈদের সময়ও নামাজ আদায় করতে গেলে তাদের ঈদগাহ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে ফতোয়া প্রদানকারী স্থানীয় মসজিদের ইমাম আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে কথা বললে তিনি স্বীকার করেন অন্য হিল্লা বিয়ে না দেওয়া হলে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বাস করতে পারবে না, এই ফতোয়া তিনি দিয়েছেন। মসজিদের মোতয়াল্লী আব্দুর রাজ্জাক মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মশিউর রহমান স্বীকার করেন তারা মসজিদের ইমামের দেয়া ফতোয়ার সঙ্গে তিনি একমত।
এ ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের রংপুর বিভাগীয় প্রধান আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একটি পরিবারকে এ ভাবে ২ বছর ধরে এক ঘরে করে রাখা অমানবিক।
মানবাধিকার কর্মী ও প্রবীন আইনজীবী এম এ বাশার বললেন, এভাবে একটি পরিবারকে এক ঘরে করে রাখা তাদের মানুষিক নির্যাতন করা বেআইনি। তিনি এর প্রতিকার করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
আরও পড়ুন: যশোরে শার্শার ইউপি চেয়ারম্যান ছুরিকাহত
/জেবি/
আপ: এইচকে








