তিস্তা নদীর পানি ফের বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারি বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা অববাহিকার নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরের চর ও চরগ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে পড়েছে। সেইসঙ্গে তিস্তা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কয়েক হাজার মানুষের ঘরবাড়ি বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৫ জুন) নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, সকাল ৬টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ৫৫ মিটার)) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। যা সকাল ৯টায় আরও ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডালিয়া পয়েন্টে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ১২৭ মিলিমিটার।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান জানান, সকাল ৯টা পর্যন্ত তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তাই তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইস গেইট খুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর ওপারে তিনটি ওয়ার্ডের চরখড়িবাড়ি পূর্বখড়িবাড়ি,টাপুরচর,ঝিঞ্জিরপাড়া ও মেহেরটারী গ্রাম তিস্তার বন্যা ও ভাঙনে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। চরখড়িবাড়ি স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বালির বাঁধটির ৪০০ মিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। সেখানকার দেড়শ’ পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।
এছাড়া মধ্য চরখড়িবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। বিদ্যালয়ের পুরানো ভবনটির একটি অংশ চলে গেছে নদীর গর্ভে। নতুন ভবনটি হুমকির মুখে পড়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন।
সূত্র মতে, শুধু চরখড়িবাড়ি এলাকার ২০ হাজার মানুষ চরম ক্ষতিগ্রস্ত। কারণ তিস্তা নদী গতি পরিবর্তন করে ওই এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, তিস্তার বন্যা ও ভাঙনে টেপাখড়িবাড়ির তিন ওয়ার্ডের পাঁচ গ্রামের অবস্থা ভয়াবহ। সেখানে ১০ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ১০ কেজি করে চাল ও বরাদ্দকৃত নগদ টাকা দিয়ে শুকনা খাবার সরবরাহের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, তিস্তার এমন বন্যায় ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানি, ঝুনাগাছ চাঁপানি, গয়াবাড়ি, জলঢাকা উপজেলার গোলমুণ্ড, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী, লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা, কালীগঞ্জ, রংপুরের গঙ্গচড়া উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত চর ও চর গ্রামগুলোর প্রায় ৫০ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানান।
ঝুনাগাছ চাঁপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ছাতুনামা ও ফরেস্টের চরের সাতশ’ পরিবারের বসতভিটায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এসব পরিবারের অধিকাংশ বাড়ি হাঁটু পানিতে তলিয়ে রয়েছে।
খালিশা চাঁপানি ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, পশ্চিম বাইশ পুকুর, পূর্ব বাইশ পুকুর, সতিঘাট ও ছোটখাতা গ্রামের ৮শ’ পরিবার বন্যার কবলে পড়েছে।
পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান বলেন, ঝাড়সিংশ্বের ও ছাতনাই গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারের বসতভিটায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।
খগাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন বলেন, কিসামত ছাতনাই ও দোহলপাড়া গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার বন্যার কবলে পড়েছে। এসব পরিবারে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২২ জুন) সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।
/বিটি/টিএন/








