বৃষ্টি আর উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীতে পানি বেড়েই চলেছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে নদী ভাঙন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বাংটুর ঘাট এলাকার মজিবর রহমান জানান, সকাল থেকে পানির তীব্র স্রোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বালির বস্তা ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। এছাড়া নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পাট, সবজি, কলা ও আমন বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে বেশ কিছু পুকুর ও জলাশয়ের মাছ।
কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর, ঘোগাদহ, উলিপুরের সাহেবের আলগা, হাতিয়া, চিলমারীর রানীগঞ্জ, অষ্টমীর চর, নয়ারহাট রাজারহাট উপজেলার ডাংরা ঠুটাপাইকর ও ফুলবাড়ি উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে কয়েকটি ইউনিয়নের চরগ্রামগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ২২, ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৩৩ ও চিলমারী পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিয়নের চরাঞ্চলগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে রাতের মধ্যে চরাঞ্চলের বেশির ভাগ গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, গত এক সপ্তাহে ইউনিয়নের ৫০টি পরিবার ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানানো হলেও এখনও কোনও পদক্ষেপ নেননি তারা।
তবে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সেকশনাল অফিসার মো. আলমগীর জানান, জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের জন্য ২ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু হবে।
এদিকে বন্যা ও ভাঙ্গন কবলিত এলাকার লোকজনদের সহায়তার ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিনের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কিছু করার নেই। আপনার যা বলার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলুন, এরপর সচিবকে বলুন, মন্ত্রীকে বলুন। নদী তীরবর্তী এলাকা ভাঙবে এটাই স্বাভাবিক। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
/জেবি/এএ/








