উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে গাইবান্ধার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নদী ভাঙনে ইতোমধ্যে জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার তিন শতাধিক ঘরবাড়িসহ সহস্র বিঘা আবাদি জমি এবং শত শত গাছপালা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ শতাধিক পরিবার। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনও ভুমিকা পালন করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কুমার সরকার জানান, ভাঙন প্রতিরোধে জেলার হলদিয়া-গোবিন্দপুর, গণকবর, কাতলামারী ও গোবিন্দি পয়েন্টে তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করেছে। এছাড়া আরও ২শ’ ৫৮ কোটি টাকায় একটি প্রকল্পের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙনে কবলে পড়ে তিস্তা নদী বেষ্টিত সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর ও দক্ষিণ শ্রীপুর, কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া, হরিপুর ইউনিয়নের হাজারির হাট, চড়িতাবাড়ি, বোচাগাড়ি, হরিপুর খেয়াঘাট ও বেলকা ইউনিয়নের কিশামত সদর, বেলকা, নবাবগঞ্জ, ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের কাউয়াবাঁধা, পশ্চিম নিশ্চিন্তপুর, চন্দনস্বর, পশ্চিম খাটিয়ামারী, উত্তর খাটিয়ামারী, পূর্ব খাটিয়ামারী, এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের তিনথোপা, পাগলার চর, বুলবুলি ও জিগাবাড়ি, যমুনা নদী বেষ্টিত সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, মদনের পাড়া, গোবিন্ধপর, চিনিরপটল, গোবিন্ধি, কামারপাড়া, বরনতাউর, বাশহাটা এবং মিয়াপাড়া গ্রামের তিন শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। তারা কেউ পাউবোর বাঁধ কেউ আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেউ কেউ নদী ভাঙনের মুখে বাড়ি ঘর ও গাছপালা কেটে নৌকায় অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড সঠিক সময়ে পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভাঙনের এই ভয়াবয় রূপ ধারণ করেছে। এখনও ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জেলার ঐতিহ্যবাহী ভরতখালি কাষ্টকালী মন্দির ও ভরতখালি হাটসহ বেশ কিছু স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী প্রধান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলায় জুন মাসে তার এলাকায় দুই শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এয়াড়া কানইপাড়া সুইচ গেট বিধ্বস্ত হয়ে ২০টি গ্রামের ফসলের ব্যপক ব্যপক ক্ষতি হয়েছে এবং হুমকিতে পড়েছে হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ত্রিতলা কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসা ।
/এইচকে/আপ: এনএস/
আরওপড়ুন: দুইসন্তানকেবিষখাইয়েবাবারআত্মহত্যা








