বাংলাদেশে ৮৮টি বিলুপ্ত ছিটমহলের নাগরিকদের ভোটার তালিকা প্রণয়নের কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহের পর এবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ২৫ জুলাই পর্যন্ত ছবি তোলা ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন চলবে। তবে উচ্চ আদালতের একটি রিটের কারণে নীলফামারীর চারটি বিলুপ্ত ছিটমহলের ভোটার তালিকার কাজ স্থগিত হয়েছে।
রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজাররা গত ১০ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ৭ দিন বিলুপ্ত ১১১টি ছিটমহলের মধ্যে বসবাসরত নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহে কাজ শেষ করেছে।
এরপর গত রবিবার থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তোলার কাজ শুরু হয়েছে। এটি চলবে আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত। যে সব ছিটমহলে এই কার্যক্রম চলছে সেগুলো হলো পঞ্চগড় জেলায় ৩৬টি, লালমনিরহাটে ৫৮টি, কুড়িগ্রামে ১২টি।
তিনি জানান, ১১১টি বিলুপ্ত ছিটমহলের মধ্যে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার ভেতরে থাকা ১৯টি ছিটমহলে কোনও জনবসতি নেই। আর উচ্চ আদালতে সীমানা জটিলতা নিয়ে একটি রিট মামলা থাকায় নীলফামারীর ৪টি বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দাদের ভোটার হওয়ার কার্যক্রমের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
রবিবার সকাল থেকে ছবি তোলা ও জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি তোলার কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টায় গিয়ে ছবি তোলার জন্য বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ছবি তোলা ও রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরপর আগামী ১ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। খসড়া ভোটার তালিকা সংশোধন করা হবে ২৮ জুলাই পর্যন্ত। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর।
নীলফামারী জেলা নির্বাচন অফিসার জিলহাস উদ্দিন জানান, জেলার ডিমলা উপজেলার অভ্যন্তরে যে চারটি বিলুপ্ত ছিটমহল রয়েছে তার ভোটার তালিকা প্রণয়নের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। আগের জনগণনা অনুযায়ী ওই চার বিলুপ্ত ছিটমহলে ১১৯টি পরিবারের ৫৪৫ জন সদস্য রয়েছে।
ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন বিলুপ্ত ছিটমহলের সীমানা জটিলতা নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করায় ওই এলাকার খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি ও গয়াবাড়ি ইউনিয়নের নির্বাচনও স্থগিত রাখা হয়।
রিটকারী খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন জানান, উচ্চ আদালত শুধু একটি নয়, ডিমলার চারটি বিলুপ্ত ছিটমহল সংক্রান্ত বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত গেজেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
/জেবি/টিএন/
আপ: এইচকে








