উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলার বোদা উপজেলার উলিপুকুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমানকে অভিভাবকরা ঘণ্টা খানেক অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে জানা গেছে। উপবৃত্তির টাকায় শিক্ষার্থীপ্রতি ৪ থেকে ৭শ’ টাকা কম দেওয়ায় অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ প্রকাশের এক পর্যায়ে তাকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দিলিপ কুমারের হস্তক্ষেপে দুই ঘণ্টা পর তিনি মুক্ত হন।
দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবি করে অভিভাবকরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের ১৫১ জন শিক্ষার্থীকে বুধবার (২০ জুলাই) উপবৃত্তির টাকা প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের নামে সরকারিভাবে ১২শ’ থেকে ১৮ শ’ টাকা উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ১৮শ’ টাকার স্থলে ১১শ’ টাকা এবং ১২ শ’ টাকার স্থলে ৮ শ’ টাকা প্রদান করে। এতে শিক্ষার্থীদের না দেওয়া প্রাপ্য এসব টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করেছেন ওই প্রধান শিক্ষক, এমন অভিযোগ ওঠে।
ওই বিদ্যালয়ে ১ম শ্রেণির ছাত্র ছিয়াম ইসলাম ও সমাপনী পরীক্ষার্থী নাছরিন আক্তারকে ১৮’শ টাকা উপবৃত্তি দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের ১১শ’ টাকা উপবৃত্তি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের অভিভাবক জহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান বিনা কারণে আমার ছেলেমেয়েদের উপবৃত্তির টাকা থেকে ৭শ’ টাকা কেটে নিয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরে অভিভাবকরা বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষরেকর কাছে টাকা ফেরত চান। প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান টাকা প্রদানে টালবাহানা করলে উত্তেজিত অভিভাবকরা বিক্ষোভ মিছিল করে এবং প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ের কক্ষে তালা বদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে বোদা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দিলিপ কুমার সরকার ঘটনাস্থালে গিয়ে তদন্ত পূর্বক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিলে অভিভাবকরা শান্ত হন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১শ’ থেকে ১২৫ জন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর নামে উপবৃত্তি উত্তোলন করেন। বোদা উপজেলা শিক্ষা অফিসার দিলিপ কুমার সরকার অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
/এইচকে/
আরও পড়ুন: প্লাস্টিক ব্যবসায়ী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছিল ‘জঙ্গি’ শফিউল (ভিডিও)








