উজানের ঢলে তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতির আবারও অবনতি হয়েছে। রবিবার জেলার ডিমলা ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েণ্টে নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। শনিবার সেখানে ওই পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছিল।
পানির এমন বাড়া-কমায় ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে নদী ভাঙন অব্যাহত আছে। আজ রবিবার ওই ইউনিয়নের আরও ৪০ পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার কথা জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার, গোলমুণ্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের ১৫ গ্রাম আবারও বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
গত ১৭ জুলাই তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্ট নদীর পানি বিপদসীমার ১৭ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এসময় টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের ১০ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এরপর থেকে দফায় দফায় নদীর পানি বাড়া কমায় গত আটদিন ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছে এসব পরিবারের মানুষজন।
টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, শনিবার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও রবিবার পানি আবারও বৃদ্ধি পায়। ইউনিয়নের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাধটি ভেঙে যাওয়ায় চরখড়িবাড়ি, পূর্বখড়িবাড়ি, টাপুরচর, জিঞ্জিরপাড়া ও মেহেরটারী গ্রামের ওপর দিয়ে তিস্তা নদী প্রবাহিত হতে শুরু করে।
এসব গ্রামে আরও ৪০ পরিবারের ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়। এ নিয়ে ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক পবিারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হলো।
বন্যার্তদের জন্য সরকারী সাহায্যের পাশাপাশি নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর মাঝে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ও জেলা প্রশাসনের পক্ষে চাল, ডাল , লবণ, তেল, দিয়াশলাই, মোমবাতি, চিড়া মুড়িসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, আজ নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ইউনিয়নের ঝাড়শিংহেরশ্বর, পূর্ব ছাতনাই ও ছাতনাই গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবার আবারও বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। গত আট দিন ধরে কর্মহীন এসব পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এসব মানুষের মাঝে ৭ দশমিক ২শ’ মেট্রিক টন চাল ও ৭ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পুর্বাবাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, রবিবার তিস্তা ব্যারাজ পয়েণ্টে নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এপর্যন্ত ৭০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ তিন লাখ টাকা সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, আশা করি দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভাঙনের শিকার ওই পরিবার গুলোর মাঝে বিতরণ করা হবে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষে চাল, ডাল ,লবন, তেল, দিয়াশলাই, মোমবাতি, চিড়া মুড়িসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের একটি প্যাকেজ সরবরাহ করা হয়েছে।
/এইচকে/







