কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার, ফুলকুমারসহ সবগুলো নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে উচু এলাকাগুলো। চরম দুর্ভোগে পড়েছে ৯ উপজেলার ৪ শতাধিক গ্রামের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ।
পানির প্রবল স্রোতে সদরের যাত্রাপুর বাজার রক্ষা বাঁধের ১শ’ মিটার ধসে যাওয়ায় ১৫টি বাড়ি ও ১০টি দোকান ঘর নদীতে ভেসে গেছে। যাত্রাপুর বাজার রক্ষা বাঁধের অবশিষ্ট অংশ রক্ষায় দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল গফুরসহ এলাকাবাসী। চরম ঝুঁকিতে রয়েছে ২নং চর যাত্রাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সোমবার দুপুরে উলিপুর উপজেলার নাগরাকুড়া এলাকার তীর রক্ষা বাঁধ ভেঙে নতুন করে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কুমরপুর এলাকায় কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কে পানি উঠায় ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরসহ সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। হুমকীর মুখে পড়েছে চিলমারী শহর রক্ষা বাঁধ।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, গত ৮ দিনে নদ-নদীর পানি অব্যাহত বৃদ্ধির ফলে জেলার কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী, নাগেশ্বরী, রৌমারী, রাজিবপুর, ফুলবাড়ীসহ ৯টি উপজেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৫৭ ইউনিয়নের প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষ। ঘরে খাবার না থাকায় খাদ্য সঙ্কটে পড়েছে বানভাসি মানুষ। বিশুদ্ধ পানি ও গবাদি পশুর খাদ্য সঙ্কটে দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যার্তদের। সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও তা বেশিরভাগ মানুষ পাচ্ছে না বলে জানান। বন্যা কবলিত এলাকায় কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে থাকায় বিছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের কালির আলগা চরের বাসিন্দা আবু তাহের, আবু বকরসহ কয়েকজন বানভাসি জানান, টানা বন্যায় ঘরে খাবার না থাকায় বউ-বাচ্চা নিয়ে কোনও রকমে একবেলা খেয়ে দিন পার করছি। গবাদি পশুসহ বাড়ি-ভিটা ছেড়ে আশ্রয় নিতে উচু জায়গা খুঁজছি।
একই চরের নুর মোহাম্মদ জানান,তিন দিন থেকে বাড়িতে রান্না হয় না। ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের লোকজনকে উঁচু জায়গায় পাঠাইছি। আমি নৌকা নিয়ে বাড়ি পাহারা দিচ্ছি। এখনও কোনও ত্রাণ পাই নাই। বানের পানিতে বাড়ির হাঁস-মুরগী ভাইসা গেছে।
কুড়িগ্রামে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আকতার হোসেন আজাদ জানান, ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও ১শ’ ৯২ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এক হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে যা বিতরণের কাজ চলছে। নতুন করে ৫শ’ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন থেকে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। দুর্গম চরাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন।
কুড়িগ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ও দুধকুমারের পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
/জেবি/আপ-এআর/








