লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রোগীরা। এর মধ্যে গত ৬ আগস্ট থেকে সেখানে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছেছে।
জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ২৮ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন ১২ জন। এক্সরে মেশিন সচল থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাব। এছাড়া নার্স ও চতুর্থ শ্রেণির জনবলেরও সংকট সেখানে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় সেখানে রোগীরা হাতপাখা ও মোমবাতি ব্যবহার করছেন। এছাড়া পানির সংকট মেটাচ্ছেন বাইরে থেকে এনে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৬ আগস্ট থেকে বিদ্যুৎ নেই। বিশেষ ব্যবস্থায় প্রশাসনিক দফতরে বিদ্যুৎ থাকলেও রোগীদের কম্পাউন্ডে কোনও উদ্যোগ নেই। প্রচণ্ড গরমে দিশেহারা রোগীরা। প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও সভার আয়োজন করতে পারেনি।
এদিকে কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, প্রসূতি রোগী মোমেনাকে স্বেচ্ছায় হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাচ্ছেন তার পরিবার। এসময় তার স্বামী মনিরুজ্জামান জানান, এখানে অসুস্থ রোগীরা আরও অসুস্থ হচ্ছে। হাসপাতালে সেবা তো নেই বরং ফ্যান, আলো ও পানির অভাবে রোগীরা মারাত্মক সমস্যায় আছে।
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আহসান হাবীব জানান, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপরও সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার কথা থাকলেও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কাছ থেকে ‘টোকেন’ মানি নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয় জানতে চাইলে ডা. আহসান হাবীব জানান, এ ধরনের কোনও চিঠি তারা পাইনি। রোগীদের উন্নত খাবার সরবরাহ করা হয়নি। টোকেন মানি ৩ টাকা ও ৮ টাকা রশিদের মাধ্যমে নেওয়া হয় রোগীদের কাছে।
কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সদ্য যোগদান করার কথা জানিয়ে রুস্তম আলী মোবাইল ফোনে বলেন, নথিপত্র অনুযায়ী ২০১১ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির কোনও সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে হাসপাতালের সার্বিক বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ খোঁজ-খবর রাখেন।
হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, গত ৬ আগস্ট হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা করেন।
লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. আ ফ ম আহসান হাবীব বলেন, কেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয় না তা আমার জানা নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগীর এ কষ্টে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।
সমাজ কল্যান প্রতিমন্ত্রী ও লালমনিরহাট-২ আসনের (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহমেদের কাছে এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন রেখে দেন। পরে আবারও যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তিনি কোনও কথা বলেননি।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে আজ দাফন যুক্তরাষ্ট্রে নিহত ইমামের
/এআর/








