বঙ্গবন্ধুর সহচর আব্দুর রহিমের দাফন সম্পন্ন

দিনাজপুর প্রতিনিধি
০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৭:৫৪আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৭:৫৪

লাখো মুসল্লির সমাগমে দু’দফা জানাজা শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহচর, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড.এম.আব্দুর রহিমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সহচর আব্দুর রহিমের দাফন সম্পন্ন

সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল আড়াইটার দিকে তার গ্রামের বাড়ি শংকরপুর ইউনিয়নের পাচকুর জালালপুর গ্রামে তৃতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এর আগে সকাল ১১টায় দিনাজপুরের শহীদ বড় ময়দানে তার দ্বিতীয় নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সেখানে লাখো মুসল্লির সমাগম হয়। দ্বিতীয় জানাজার আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে তাকে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দিনাজপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন। পরে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

আব্দুর রহিমের নামাজের জানাজা ও দাফনকার্যে তার বড় ছেলে বিচারপতি এনায়েতুর রহিম, ছোট ছেলে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জনশীল গোপালসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর স্টেশন ক্লাবে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গত রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুক্তিযুদ্ধের এই সংগঠক। প্রবীণ রাজনীতিক  আব্দুর রহিম সিওপিডি, ডায়াবেটিক, হাইপারটেনশন ও অ্যাকুইট হার্ট অ্যাটাক রোগে ভুগছিলেন। গত ৩ আগস্ট তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে সেখান থেকে জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার আরও অবনতি হলে গত ৯ আগস্ট বিকালে তাকে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তিনি মারা যান।

এম আব্দুর রহিম ১৯২৭ সালের ২১ নভেম্বর দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রাবস্থায় রাজশাহী কলেজে ভাষা আন্দোলনের কর্মসূচিতে সংযুক্ত ছিলেন তিনি। আব্দুর রহিম মুসলিমলীগ সরকারের হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর যুক্তফ্রন্টের একজন কর্মি হিসেবে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনি প্রচারাভিযানে অংশ নেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বৃহত্তর দিনাজপুর আঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। ৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন হলে গোটা দেশকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যে ১১টি বেসামরিক জোনে ভাগ করা হয় সেসময় আব্দুর রহিম ছিলেন পশ্চিম জোনের জোনাল চেয়ারম্যান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ১৮ ডিসেম্বর দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

আরও পড়ুন: জঙ্গি সন্দেহে মালয়েশিয়া ফেরত আকাশ থানায় জামাই আদরে!

/এআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
রাজশাহীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
রাজশাহীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের