সব্যসাচী লেখক সৈয়দ সামছুল হকের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের মূল প্রবেশ গেটের দক্ষিণ পাশে তার কবরের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। সেখানে ধানখেতের পাশে সবুজের সমারোহে শায়িত হবেন কবি। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এবং পৌর কর্তৃপক্ষ ও কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সহায়তায় কবর তৈরির কাজ চলছে। বুধবার দুপুর নাগাদ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম পৌরসভার মেয়র আব্দুল জলিল।
এ জেলার কৃতী সন্তান সদ্য প্রয়াত কবি সৈয়দ শামসুল হকের সমাধির জন্য নির্ধারিত স্থানে গিয়ে দেখা যায়, সমাধিস্থল প্রস্তুতের জন্য সন্ধ্যার পরপরই পৌরসভার পক্ষ থেকে শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। কুড়িগ্রাম পৌর মেয়রের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়নে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ও জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত জায়গায় কবির সমাধিস্থল প্রস্তুতির কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সরকারের নির্দেশে ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কবিকে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কবির মরদেহ বহণকারী হেলিকপ্টারটি কুড়িগ্রামে পৌঁছানোর আগেই সব প্রস্তুতি শেষ হবে।
কবির পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গত বছর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে একবার ও পরে আরও একবার কুড়িগ্রামে এসে মৃত্যুর পর এখানেই শায়িত হবেন বলে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন কবি।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মির্জা নাছির উদ্দিন বলেন, ‘সব্যসাচী এই লেখকের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজের দুই শতাংশ জমি কবির সমাধিস্থলের জন্য অর্পণ করেছে। ইতোপূর্বে এ বিষয়ে একটি রেজুলেশন প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং তাতে কবি নিজেও স্বাক্ষর করেছিলেন। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠিও পাঠানো হয়েছে এবং তাদের নির্দেশক্রমে কবির কবরের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’’
এদিকে, বিশিষ্ট এই লেখকের মৃত্যুর খবরে কুড়িগ্রামের সাহিত্য ও সংস্কৃতি মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, কুড়িগ্রামের পক্ষ থেকে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে কবির মৃত্যুতে একটি শোক সভার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। শোক সভায় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মীর্জা নাসির উদ্দিন জানান, দাফনের আগে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ প্রাঙ্গনে তার শেষ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগে মঙ্গলবার রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সব্যসাচী এ লেখক।
আরও পড়ুন:
সৈয়দ শামসুল হকের অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার
/এনএস/বিটি/








