গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের ইদিলপুর গ্রামের মো. আতোয়ার রহমান ১৫ বিঘা জমির মালিক। হতদরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজির চালের কার্ড পেয়েছেন তিনি! অথচ ওই গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক ইউনুস আলী আকন্দ কার্ড পাননি। যার দুটি সন্তানের মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী।
ইদিলপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য দেওয়া ১০ টাকার কার্ড নিয়ে চলছে এ রকম নানা ধরনের অনিয়ম। এ নিয়ে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও স্বচ্ছল পরিবারকে কার্ড দেওয়াসহ নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। ইতোমধ্যে ইউনিয়নের অর্ধ শতাধিক জনগণের স্বাক্ষরিত এরকম এক লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে ।
অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বছরের যে সময় দরিদ্র মানুষের হাতে কোনও কাজ থাকে না অর্থাৎ (সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর, মার্চ ও এপ্রিল) এই পাঁচ মাস সারা দেশের মত ওই ইউনিয়নের মোট ১ হাজার ৩০০ দরিদ্র ও কৃষকের মজুরের বিপরীতে এই কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দের অর্ধেকের বেশি এই কার্ড পেয়েছেন যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো। যারা কার্ড প্রতি এক থেকে দুই হাজার টাকা দিতে পারেননি এ রকম তালিকাভুক্ত ২৫ ভাগ কার্ড এখনও বিতরণ করা হয়নি। কৌশলে ওই কার্ড এর প্রথম কিস্তির চাল চেয়ারম্যান ফারিয়াদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ সব অপকর্মের সুবিধার জন্য তিনি ওই ইউনিয়নের দুজন ডিলারের মধ্যে একটি ডিলারশিপ তার (চেয়ারম্যান) আপন জ্যাঠাতো ভাই নাকির রেজা খোকনকে পাইয়ে দিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মাদারহাটে জিল্লুর রহমানের ১০ টাকার চাল বিক্রয় কেন্দ্র। তারপরও মাত্র ৫০০/৬০০ গজ দূরে তার ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে অপর ডিলার তার জ্যাঠাতো ভাই নাকির রেজা খোকনের ১০ টাকার চাল বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। নাকির রেজা খোকনের কাছ থেকে যারা চাল কিনেছেন তারা বাইরে এসে মেপে দেখেন ৩০ কেজির জায়গায় ২৫ থেকে ২৬ কেজি।
ওই ইউনিয়নের কুঞ্জমহিপুর গ্রামের বাদশা মিয়া জানান, তালিকায় নাম থাকা সত্বেও কার্ড আনতে চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি জানান, তোমার কার্ড কে বা কারা নিয়ে গেছে আমি জানি না।
ওই ইউনিয়নে নিযুক্ত ট্যাগ অফিসার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউর রহমান বিভিন্ন অনিয়মের কথা স্বীকার করে জানান, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ের ১০ টাকার চাল বিক্রয় কেন্দ্রের মাপে কম হওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহমান সাজু মাস্টার বলেন, দরিদ্র মানুষের সুবিধার জন্য সরকার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি (সরকার নির্ধারিত দামে কার্ডের মাধ্যমে চাল ও গম বিতরণ কর্মসূচি) হাতে নিয়েছে। কিন্তু জামায়াতের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত ইদিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাব্বি আব্দুল্যা রিয়ন আমাদের সরকারের জনবান্ধব এ কর্মসূচি যাতে সফল না হয় সেজন্য তিনি এ সব করছেন।
এ বিষয়ে জানতে ইদিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাব্বি আব্দুল্যা রিয়ন জানান, নানা কারণে কিছু অনিয়ম হয়েছে। তবে পরবর্তীতে এ সব সমাধান করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান হাবীব অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এআর/







