গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার থেকে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালরা জমি ফেরত চাইলেও তাদের পুনর্বাসনের কোনও সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ। সাঁওতালদের ওপর হামলা, লুটপাট ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রবিবার গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, যারা খোলা আকাশের নিচে আছে বলে দাবি করছে, তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব বাড়িঘড় আছে। তবে আমরা ৩১ জন ভূমিহীন সাঁওতালদের তালিকা তৈরি করেছি। তারা রাজি হলে কাটাবাড়ি ইউনিয়নের ১৪ দশমিক ২৬ একর জায়গায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসন করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, সাঁওতালদের উচ্ছেদের জন্য কোনও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি। সেদিন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সরকারি জানমাল সম্পত্তি ও অস্ত্র রক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ইতোপূর্বে দায়ের করা অস্ত্র লুটের মামলাসহ অন্য মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ গিয়েছিল। চিনিকলের জমি দখল করে সাঁওতাল পল্লি এলাকায় সর্বসাধারনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে রেখেছিল। তাই আশপাশের লোকজন তাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল।
সম্মেলনে পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম বলেন, গত ৬ নভেম্বর ইক্ষু খামারে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সঙ্গে মিল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনাসাধারণের মধ্যে সংঘঠিত ঘটনাবলীর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য প্রকাশিত হচ্ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সর্বসাধারণের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, গত ১২ জুলাই চিনিকলের শ্রমিকরা ইক্ষু চাষের জন্য ওই খামারে গেলে সাঁওতালা তাদের ওপর হামলা করে। পরে গোবিন্দগঞ্জ ইউএনওসহ পুলিশ ঘটনাস্থাল যায় এবং এক এএসআই ও কনস্টেবলকে সাঁওতালরা তীরবিদ্ধ করে। এর কারণে গত ১৪ জুলাই সেখানে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এতে সাঁওতালরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৭ আগস্ট তীরধনুক নিয়ে ক্যাম্পে হামলা করে পুলিশকে আহত করে একটি শটগান লুট করে নিয়ে যায়। ফলে এ দুটি ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এরপর গত ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ বীজ সংগ্রহের জন্য আখ কাটতে গেলে সাঁওতালরা তাদের আক্রমণ করে আখ বীজ ছিনিয়ে নেয়। পরে ইউএনওসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সাঁওতালরা তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে ৮ পুলিশ সদস্য তীরবিদ্ধ হয়। তখন সরকারি সম্পত্তি ও জানমাল নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে উচ্ছৃঙ্খল সাঁওতালদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য প্রথমে গ্যাসগান ও শর্টগানের গুলি ছোড়া হয়। এতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে কিছু রাইফেলের ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তবে সাধারণ সাঁওতালদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, কোনও আশ্রয়কেন্দ্র নয়। মিল কতৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণ করে নিয়ে তাদের ওয়ারিশদের ভোগদখলের বাহিরে রেখে দিয়েছিল। কিন্তু মিল অধিগ্রহণের চুক্তিভঙ্গ করেছে। তাই এখন আবার তারা মালিকানা ফিরে পেতে চায়।থাকতে চায় আপন ঠিকানায়। যা নিয়ে গত ৬ নভেম্বর ঘটে গেছে প্রাণহানি আর রক্তাক্ত সহিংস ঘটনা।
/এআর/








