রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন ঔষধি বাগানে দুই দফা আগুনে শত শত মূল্যবান গাছ পুড়ে গেছে। আগুন লাগার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫০ লাখ টাকা হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে। তবে কীভাবে বাগানে আগুন লেগেছে তা জানা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দুবারে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে উপাচার্য অধ্যাপক ড, নুর উন নবী জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন ঔষধি বাগানের ভেতরে ধোয়া বের হতে দেখা যায়। আস্তে আস্তে সেই ধোয়া ও আগুন বাগানের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরপর সন্ধা ৬টার দিকে আবারও ঔষধি বাগানে আগুন লাগলে মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। এতে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ক্যাম্পাস ছড়িয়ে পড়ে। পরে আবারও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই বাগানে প্রায়ই বহিরাগতরা নেশা করতে আসে। তাদের ধারণা পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, ৮ বছর আগে মূলত মূল্যবান ঔষধি গাছের ওপর গবেষণা করার জন্যই ঔষধি বাগান করা হয়েছিল। এখানে কয়েক হাজার গাছ রোপন করা হয়। সেসময় বাগানের নিরাপত্তার জন্য চারদিকে ইটের গাঁথুনী দিয়ে ঘেরা ছিল। কিন্তু কতৃপক্ষের অবহেলার কারণে বেশিরভাগ ইট চুরি হয়ে যাওয়ায় বাগানটি নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ছিল।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও সহকারী রেজিস্ট্রার আমিনুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, সকালে এসেই আমরা আগুন দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। কে বা কারা এই আগুন লাগিয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে এই আগুন লাগানো হয়েছে। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আহ্বান জানান।
সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুর উন নবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ঘটনা তদন্তে বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. শফিক আশরাফকে প্রধান সহকারী প্রক্টর আমিনুর রহমানকে সদস্য সচিব করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
/এআর/








