সহপাঠী বন্ধুরা যখন দলবেঁধে স্কুলে যাচ্ছে, তখন আগুনে পোড়া শরীর নিয়ে বিছানায় অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে দশ বছরের শিশু সাদিয়া। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার মিস্ত্রিপাড়া নবীন নগরের বাসিন্দা ময়না বেগমের নাতনী এই শিশুটি জন্মের পর পরই বাবা-মাকে হারায়। সাম্প্রতিক এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে গিয়ে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার শরীর। একসময় ডাক্তার হতে চাওয়ার স্বপ্নও ম্লান হয়ে আসে।
সাদিয়ার বাবা, মৃত মুরাদ আলী পেশায় ছিলেন একজন শ্রমিক, মা মৃত ছকিনা বেগম মানুষের বাড়ীতে ঝি-এর কাজ করতেন। দুজনই দুরারোগ্য রোগে ভুগে মারা যান। সাদিয়ার শেষ ঠাঁই হয় দাদি ময়না বেগমের কাছে।
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে অসাবধানতায় চুলার আগুনে পড়ে গিয়ে দগ্ধ হয় তৃতীয় শ্রেণির মেধাবী এই ছাত্রী। পুড়ে যায় তার শরীরের একতৃতীয়াংশ। বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সৈয়দপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থা গুরুতর দেখে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।
এখন পোড়ার ক্ষত শুকোতে শুরু করলেও তার গলার চামড়ার সঙ্গে চিবুক লেগে গেছে। এতে সারাক্ষণ ফাঁক হয়ে আছে তার মুখ, ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। রংপুর বার্ন বিভাগের চিকিৎসক ডা. গৌতম রায় জানিয়েছেন, সুস্থ্য ও স্বাভাবিক হতে সাদিয়ার স্কিনসার্জারি করতে হবে। এজন্যে প্রায় দু’লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজন। হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে যা জোগাড় করা অসম্ভব।
সাদিয়া অন্যসব শিশুর মতো স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে চায়। সাদিয়ার দাদি ময়নার আকুল আবেদন- সমাজের বৃত্তশালীরা যেন মা-বাবা হারা এই শিশুটির চিকিৎসা ও পড়াশোনার কথা জেনে আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন।
সাদিয়ার জন্য সাহায্য পাঠাতে পারেন যে কেউ। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক, সৈয়দপুর শাখা। ময়না বেগম হিসাব নং- ১৯০২৩, প্রয়োজনে: ০১৯২০০৭২৪০২
/এইচকে/








