জনবল সংকটে কুড়িগ্রামে প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্থবির হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসন, জেলা জজ আদালত, সদর হাসপাতাল ও সমাজসেবা অধিদফতরসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে যে পরিমাণ লোকবল থাকার কথা তা নেই। ফলে কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। এ অবস্থায় কুড়িগ্রামে সরকারের রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৩৮ কর্মকর্তার স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র ১৮ জন। অর্ধেকেরও বেশি কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগে নিয়মিত কর্মকাণ্ড চালানো দায় হয়ে পড়েছে। জেলার ৯ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়েছেন মাত্র তিনজন। আর সহকারী কমিশনারের ৯টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র দুজন। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ৩০৫টি পদের মধ্যে কর্মী আছেন ৫৯ জন। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসনের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্তদের।
বিচারক সংকটে জেলা জজ আদালতের কার্যক্রম চালাতে সমস্যা হচ্ছে। বিড়ম্বনায় পড়ছেন বিচার প্রার্থীরা। স্বল্প সংখ্যক বিচারক দিয়ে বিচার কাজ চালাতে গিয়ে মামলা জট বাড়ছে।
জেলা জজ আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালতে ১৪ জন বিচারক থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৭ জন। আর জেলা চিফ জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালতে ৯ জন বিচারকের বদলে আছেন তিনজন। বাকি ৬টি পদই শূন্য।
জনবল সংকটের কারণে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম যথাসময়ে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়। বয়স্ক, বিধবা, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি, ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমসহ সরকারের নানা সেবা সময় মতো পাচ্ছেন না লোকজন।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এমদাদুল হক প্রামাণিক জানান, পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে সময়মত সেবা দিতে পারছেন না তারা।
চিকিৎসক সংকটে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসকের ৪২ পদের ২২টি শূন্য। প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অনেক রোগী। তাদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বরত নার্স এবং চিকিৎসকরা। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় রোগীরাও অসোন্তুষ্ট। কারণ জেলার ২০ লাখ মানুষের চিকৎসার একমাত্র ভরসা এই হাসপাতালটি।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাহিনুর রহমান সরদার বলেন, ‘চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের সেবা দিতে চরম সমস্যার পড়ছি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে চিকিৎসক চাওয়া হয়েছে। এখনও জবাব পাওয়া যায়নি।’
এছাড়া গণপূর্ত অধিদফতরসহ জেলার অন্যান্য সরকারি দফতরগুলোয় জনবল সংকটের কারণে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে কাজ করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কাজও আশানরূপ গতিতে এগোচ্ছে না। কোনও কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম এসে থাকতে চান না। সবাই শুধু বড় বড় শহরে বদলি নিয়ে চলে যান। জনবল সংকটের বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। তবে এখনও ফল পাইনি।’
/এসটি/








