বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান শিশিরের দাবি করা এক লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড়ে অবস্থিত রিফা ফাস্ট ফুড অ্যান্ড কনফেকশনারিতে সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলা চালিয়ে তারা ৪টি ফ্রিজসহ বিভিন্ন মালমাল ভাঙচুর ও লুট করেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা নগরীর পার্কের মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। দায়িদের গ্রেফতারের দাবিতে দোকান পাট বন্ধ করে ধর্মঘটও শুরু করেছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শনিবার সকালে ছাত্রলীগ রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান শিশির তার দলবল নিয়ে রিফা ফাস্ট ফুড অ্যান্ড কনফেকশনারি দোকানে গিয়ে দোকানের মালিক মাজেদুল ইসলাম লাভলুর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করার কিছুক্ষণ পর সকাল ১০টার দিকে ছাত্রলীগ সভাপতি শিশিরের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কনফেকশনারিতে হামলা চালিয়ে ৪টি ফ্রিজ, র্যা কসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। এসময় তারা নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পার্ক মোড়ের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে রংপুর-কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) শাহিনের নেতৃত্বে পুলিশ এসে ব্যবসায়িদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে রিফা ফাস্ট ফুড অ্যান্ড কনফেকশনারির মালিক ও পার্কের মোড় ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম বাবলু জানান, ছাত্রলীগ সভাপতি শিশির এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলো। টাকা দিতে অস্বীকার করায় দলবল নিয়ে এসে দোকানে তাণ্ডব চালিয়েছে। এতে তার প্রায় ৩ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘শিশিরের অব্যাহত চাঁদাবাজিতে পার্কের মোড়ের ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। বারবার অভিযোগ করেও কোনও কাজ হয়নি।’
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) এরশাদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কনফেকশনারিতে হামলার কথা স্বীকার করেন। জরুরি প্রয়োজনে তিনি রংপুরের বাইরে আছেন জানিয়ে এএসআই শাহীনের সঙ্গে যোগাযোগ করারও পরামর্শ দেন। কিন্তু বারবার ফোন করা হলেও শাহীন তার ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে, ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান শিশিরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিনিয়র সহ সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভাঙচুরের ঘটনা শুনেছি। ঘটনাটি যারাই ঘটাক না কেন বিষয়টি দুঃখজনক।’ এর বাইরে বিস্তারিত কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।
/এমও/








