ঠাকুরগাঁওয়ে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মির্জা মো. আইয়ুব আলী এ রায় দেন। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সদর উপজেলার রুহিয়া থানার মাধবপুর গ্রামের আলমগীর (২০),ইসমাইল হোসেন (৩০),আরিফ হোসেন (২২) ও একই থানার বোয়ালিয়া গ্রামের ইউসুফ আলী (২০)।
মামলার বিবরনে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৭ জুন রাত দেড়টার দিকে আসামিরা সিঁদ কেটে ওই গৃহবধূর ঘরে ঢোকে। তারা গৃহবধূর চার বছরের ছেলের গলায় ছুরি ধরে তাকে খাটের সঙ্গে বেঁধে গণধর্ষণ করে। ধর্ষকরা পালিয়ে গেলে প্রতিবেশী এক নারী ওই গৃহবধূর গোঙানির শব্দ শুনে তাকে উদ্ধার করে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, স্বামী ঢাকায় গার্মেন্টসে শ্রমিকের কাজে বাইরে থাকায় ১৯ জুন ধর্ষিতা নিজে বাদী হয়ে রুহিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।
বিচার চলাকালে আসামিরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জব্দকৃত আলামত ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী সন্দেহাতীতভাবে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই রায় দেন বিচারক।
রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে নারী অধিকার নেত্রী সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তাহমিনা মোল্লা বলেন, নারী দিবসকে সামনে রেখে এ রায় জেলার নারীদের জন্য একটা বিজয়।
এ মামলায় সরকারিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন পিপি আবু তৈয়ব মোহাম্মদ নাজমুল হুদা বাবলু। আসামিপক্ষের আইনজীবি ছিলেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।
/বিএল/
আরও পড়ুন:
শাস্তি মওকুফের পরও কাজে যোগ দেননি বগুড়ার ইন্টার্ন চিকিৎসকরা







