গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্রেফতার ডা.আবদুল কাদের খাঁনের আরও একদিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অস্ত্র আইনের মামলায় মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সুন্দরগঞ্জ) বিচারক মো. মইনুল হাসান ইউসুফ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খায়রুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডে তিনটি অস্ত্র ব্যবহৃত হয়। এরমধ্যে কাদের খাঁন একটি অস্ত্র স্বেচ্ছায় থানায় জমা দেন। এছাড়া তার দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী আরও একটি অস্ত্র বাড়ির উঠানের গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় কাদের খাঁনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে কাদের খাঁন আরেকটি অস্ত্র ও অস্ত্রের উৎস সম্পর্কেও কিছু জানাননি।
তিনি আরও জানান, ওই অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে জানতে কাদের খাঁনের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। বিচারক শুনানি শেষে একদিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে নিয়ে কাদের খাঁনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বাকি অস্ত্র ও অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বগুড়া জেলা শহরে কাদের খাঁনের পরিচালিত গরীব শাহ ক্লিনিক থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে ২২ ফেব্রুয়ারি লিটন হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। একই আদালতের বিচারক শুনানি শেষে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের চতুর্থ দিনের মাথায় কাদের খাঁন আদালতে ১৬৪ ধারায় লিটন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। এরপর থেকে কাদের খাঁন গাইবান্ধা কারাগারে আছেন।
প্রসঙ্গত: ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে শাহবাজ (মাস্টারপাড়া) এলাকায় নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় লিটনের বোন তাহমিদা বুলবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে ১ ডিসেম্বর সুন্দরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ পর্যন্ত পুলিশ লিটন হত্যার ঘটনায় কাদের খাঁন, চার কিলার ও তিন সহযোগী ছাড়াও ২৮ জনকে গ্রেফতার করেছে।
/জেবি/টিএন/
আরও পড়তে পারেন: মুফতি হান্নানের প্রিজন ভ্যানে হামলার ঘটনায় মামলা








