অপহৃত শিশু রিফাতকে উদ্ধারের পর সোমবার দুপুর ১২টায় দিকে সিলেট কোতয়ালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ। সিলেটের সাব-ঠিকাদার নেছার আহমদের ছেলে অপহৃত রিফাতকে (৫) রবিবার রাতে লালমনিরহাট থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় দুই অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়। লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট সদর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকার স্বাধীন ইসলাম (২৬) ও একই জেলার সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের আলোকদীঘি এলাকার মিন্টু মিয়া ওরফে সোহাগ (২৭)।
পুলিশ জানায়, গত ১২ মার্চ সিলেটের কোতয়ালী থানায় অপহৃত রিফাতের বাবা বাদী হয়ে স্বাধীন ইসলামসহ অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
অপহৃত রিফাতের বাবা নেছার আহমদ জানান, স্বাধীন নিজের পরিচয় গোপন রেখে নিজেকে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘লাল বাবু’ উল্লেখ করে মোবাইল ফোনে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে রিফাতকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে জানালে রিফাতের কিডনি ভারতে পাচার করে দেওয়ারও হুমকি দেন। পরে ২ লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে রিফাতকে ফেরত দিতে রাজি হয়। ৩টি নাম্বারে বিকাশের মাধ্যমে তাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
লালমনিরহাট থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীন গত ১০ মার্চ সিলেটের কানিশাইল রোডের বাগবাড়ি এলাকার ১০ নম্বর বাসা থেকে রিফাতকে (৫) অপহরণ করে ঢাকার কমলাপুরের মদিনাবাগ এলাকায় বন্ধু মিন্টু মিয়া ওরফে সোহাগের বাসায় নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা রিফাতের বাবা নেছার আহমদের (৪৫) ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে কিছু দিন বিদ্যুৎ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। ওই সময় তারা রিফাতদের বাড়িতে যাওয়া-আসা করতো। সেই সূত্রে নেছারের দুই মেয়ে ও ছেলে রিফাত তাদের চাচা বলে ডাকত। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাকে অপহরণ করা হয়।
লালমনিরহাট সদর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খুনিয়াগাছ বাজার এলাকা থেকে রিফাতকে উদ্ধার এবং দুই অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে সংশ্লিষ্ট থানার মামলার তদন্তকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলামের কাছে দেওয়া হয়েছে। এসময় রিফাতের বাবা উপস্থিত ছিলেন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট কোতয়ালী থানার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রিফাতকে জীবিত উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অপহরণকারীরা যেসব সিমকার্ডে মুক্তিপণের টাকা নিয়েছে এরমধ্যে একটি সিমকার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মুক্তিপণের ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।’
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: নেশার টাকা না পেয়ে মা ও প্রতিবেশীকে কুপিয়ে হত্যা








