গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের উপ-নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। পোস্টারে পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে শহরের অলি-গলি, হাট-বাজারসহ গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি বাড়ি।
তবে এলাকার উন্নয়নে সৎ, যোগ্য ও দলীয় প্রার্থীকেই বেছে নিবেন বলে মনে করছেন ভোটররা। এ নির্বাচনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করলেও মূলত লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির (এরশাদ) দুই প্রার্থীর মধ্যে। আগামী ২২ মার্চ এ আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগের গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ (নৌকা), জাতীয় পার্টির (এরশাদ) ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (লাঙ্গল), জাতীয় পার্টির (জেপি) সাবেক এমপি ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা (বাইসাইকেল), জাসদের অ্যাভোকেট মোহাম্মদ আলী প্রামাণিক (মশাল), গণফ্রন্টের শরিফুল ইসলাম (মাছ), এনপিপি জিয়া জামান খাঁন (আম) ও স্বতন্ত্র মোস্তফা মোহসিন সরদার (আপেল)।
প্রতিক বরাদ্দের পর থেকে প্রার্থীরা সবাই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পৌর শহরসহ ১৫ ইউনিয়নের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও উঠান বৈঠক করছেন। এছাড়া হাট-বাজার ও পথে ঘাটে থাকা সাধারণ মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ বিজয়ী হবেন বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা। তিনি ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এরপর ২০১৪ সালে তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পরাজিত হলেও দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। বর্তমানে তিনি চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
অপরদিকে, জাতীয় পার্টির দূর্গ হিসেবে খ্যাত সুন্দরগঞ্জ আসনটি ২০০৮ ও ২০১৪ সালে হাত ছাড়া হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীরা আসনটি পুণঃউদ্ধারে মরিয়া হয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। দলের নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের আইন ও বিচার বিষয়ক উপদেষ্টা ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে (লাঙ্গল) বিজয়ী করতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তারা ভোটারদের কাছে তাদের প্রার্থীর যোগ্যতা তুলে ধরছেন।
তবে অনেকে মনে করছেন এ আসনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী না থাকায় তাদের সমর্থন যে দিকেই গড়বে সে দিকেই জয়ের মালা নিশ্চিত হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সর্বান্দন ইউনিয়নের উত্তর সাহাবাজ মাস্টার পাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে দূর্বৃত্তদের গুলিতে সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিহত হলে আসনটি শূণ্য হয়।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: সৎ মাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড








