নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সক্রিয় সদস্য বর্তমানে পলাতক আজাদুল কবিরাজের মাধ্যমে চার-পাঁচজন জেএমবির ক্যাডারের সঙ্গে পরিচয় হয় মেহেদুল ইসলামের। আজাদুল কবিরাজই তাদেরকে নিয়ে আসতো মেহেদুলের বাড়িতে। সেখানে জেএমবির সক্রিয় সদস্যরা রাত্রি যাপন করতো। এছাড়া তার বাড়িতেই রাতভর তৈরি করা হতো বোমাসহ বিভিন্ন ধরনের বিষ্ফোরক দ্রব্য।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় জিহাদি বইসহ গ্রেফতার তিন জেএমবি সদস্যর মধ্যে মেহেদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক জেএমবি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ সব তথ্য জানিয়েছে। মেহেদুল ইসলাম গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশামত কেওয়াবাড়ী গ্রামের মৃত নুরুল আকন্দের ছেলে।
রবিবার (৯ এপ্রিল) বিকালে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেহেদুলের জবানবন্দি রেকর্ড করেন অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. জয়নুল আবেদিন।
জবানবন্দিতে মেহেদুল ইসলাম আরও জানায়, ‘সে আগে জেএমবি বা জঙ্গিদের চিনতো না। আজাদুল কবিরাজ জেএমবির সক্রিয় সদস্যদের তার বাড়িতে নিয়ে আসতো। তখন আজাদুল কবিরাজ বলতো, ‘এরা আমার আত্মীয় মানুষ, দুই-তিনদিন এরা তোমার বাড়িতে থাকবে।’ তারা বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের কথায় ধর্মের দোহাই দিয়ে মেলামেশা করতো। রাতভর তারা ঘরের ভেতর বোমাসহ বিষ্ফোরক দ্রব্য তৈরি করতো। একদিন গভীর রাতে সে টিনের ফুটে দিয়ে বোমা তৈরির দৃশ্য দেখে ফেলে। পরে তাদের বাড়ি থেকে চলে যেতে বলা হয়। এ সময় আজাদুল কবিরাজসহ অন্যরা তাকে হুমকি দিয়ে বলে যে আরও একদিন তার বাড়িতে তারা থাকবে। এরপর রাতের কোনও এক সময় বাড়ি থেকে চলে যায় তারা।
সোমবার (৩ এপ্রিল) ভোররাতে পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের তালুকজামিরা গ্রামের আব্দুল ওয়াহাব প্রধানের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ জিহাদি বইসহ তিন জেএমবি সদস্যকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এ নিয়ে পলাশবাড়ী থানায় তাদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হয়। পরে মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে মেহেদুল ইসলামসহ গ্রেফতার দেলোয়ার হোসেন ও আতাউর রহমান মিন্টুকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করে ডিবি পুলিশ। পরে আদালতের বিচারক তাদের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে রবিবার (৯ এপ্রিল) বিকালে মেহেদুল ইসলামকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে হাজির করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদার রহমান জানান, সন্ত্রাস দমন আইন মামলা গ্রেফতার মেহেদুল ইসলামের পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মেহেদুল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
/এআর/








