‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা আপনার জন্য দেশের পরিচয় পেয়েছি, ভোটের অধিকার পেয়েছি। ঘর পেয়েছি, বিদ্যুৎ পেয়েছি। আমরা আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’
বিলুপ্ত ছিটমহলের গৃহহীন ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর বাসস্থানের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় বুধবার (৩ মে) পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বিলুপ্ত কোটভাজনী ছিটমহলের বালাসুতি গুচ্ছগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করেন বালাসুতি গুচ্ছগ্রামের সুফলভোগী রেশমা বেগম।
অপর সুফলভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কারণে আমি তিন শতক জমি পেয়েছি, ঘর-বাড়ি, টিউবওয়েল, ল্যাট্রিনসহ চিরদিনের বাসস্থান পেয়েছি। আপনার প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।’
সুফলভোগীদের বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ‘আমি খুব আনন্দিত আজ আপনাদের ঠিকানা দিতে পেরেছি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। আমরা চাই স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। ২০২১ সালের মধ্যে প্রত্যেকটি ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে। ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দ্রিরা চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহলবাসীরা তাদের ঠিকানা পেয়েছে। আমি আপনাদের কাছে দোয়া চাই যেন জাতির জনকের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে বিলুপ্ত ছিটমহলের গৃহহীন ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর বাসস্থানের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় বুধবার সকালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বিলুপ্ত কোটভাজনী ছিটমহলের বালাসুতি গুচ্ছগ্রামের উদ্বোধন করেন।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের সঞ্চালনা করেন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মণ্ডল। এ সময় উভয়পাশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধূরী, পঞ্চগড় ২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন, এমপি সেলিনা জাহান লিটা, জেলা পরিষদ প্রশাসক আমানুল্লাহ বাচ্চুসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি ও বিলুপ্ত ছিলমহলের সুফলভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে গুচ্ছগ্রাম দ্বিতীয় পর্যায়ের (সিডিআরপি) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০টি পরিবারের জন্য স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ এই আবাসন নির্মাণ করা হয়েছে।
/বিএল/








