গাইবান্ধা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা-সাঘাটা পাকা সড়কের দু’ধারের বিভিন্ন প্রজাতির ২০ লাখ টাকা মূল্যের গাছ টেন্ডারে দেখিয়ে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া নামেমাত্র গাছ টেন্ডারে বিক্রি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপন আতাঁতে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে ভাগবাটোয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এতে করে ন্যায্যমূল্য ও রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছে জেলা পরিষদ।
তবে জেলা পরিষদের দাবি, গাছগুলো নিলামে নেওয়ার সিন্ধান্ত অনেক আগে হয়েছে। বন বিভাগ গাছগুলো যাচাই-বাছাই করে দাম নির্ধারণ করেন। এরপর গাছগুলো নিলামে দিলে সব্বোর্চ দরদাতার কাছে গাছগুলো বিক্রি করা হয়।
জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মো. সিদ্দিকুর রহমান জানায়, গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কের প্রায় ৩৫ কি.মি. দৈর্ঘ্য সম্প্রসারণের কাজ হাতে নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এ কারণে সড়কের গাইবান্ধা সদর উপজেলার নশরৎপুর থেকে সাঘাটা বাজার পর্যন্ত ৭০টি গাছ কাটার জন্য গত ১৮ জানুয়ারি তিনটি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করা হয়। একটি গ্রুপের ২৭টি গাছের পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়। অপর দুটি গ্রুপের ৪৩টি গাছ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। গত ৬ এপ্রিল এসকে তাসের আলী ও লিটন কুশারীকে ঠিকাদার হিসেবে গাছ কাটার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে গত ২৮ এপ্রিল থেকে গাছ কাটা চলছে। মঙ্গলবার (২ মে) পর্যন্ত অর্ধেক গাছ কাটা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাইবান্ধা-সাঘাটা পাকা সড়কের দু’ধারে অন্তত ১০-১৫ বছরের পুরনো ৪৩টি গাছের মধ্যে বেশিরভাগই রেনট্রি গাছ। এছাড়া আম, জাম, কাঠাল, কড়াই, পাইকোরসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় গাছ রয়েছে সড়কে। এগুলোর বর্তমানে বাজার মুল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। অথচ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসব গাছ নামেমাত্র টেন্ডার আহ্বান করে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
এ বিষয়ে পিয়ারাপুর এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লাহ ও করাতকল (ছ-মিল) মালিক আবু সাঈদ অভিযোগ করে বলেন, ‘গাছকাটার জন্য যাদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে আমরা আরও বেশি দামে গাছগুলো কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা দেয়নি। এখানে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের সঙ্গে যোগসাজসে ২০ লাখ টাকার গাছ মাত্র ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কের দু’ধারের নম্বর করা গাছগুলো কাটছেন শ্রমিকরা। ইতোমধ্যে ৩০টির বেশি গাছ কাটা হয়ে গেছে।
ফুলবাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী মো. মোস্তফা মিয়া বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করি। এসব গাছের বেশিরভাগই অনেক পুরোনো। গাছের গুড়িগুলো দেখলেই বোঝা যায় এর মূল্য কত হবে। বয়স্ক প্রতিটি গাছের মূল্য ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা হবে।’
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। গাছগুলো নিলামে নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগ গাছগুলো যাচাই-বাছাই করে দাম নির্ধারণ করেন। এরপর গাছগুলো নিলামে দিলে সব্বোর্চ দরদাতার কাছে গাছগুলো বিক্রি করা হয়। গাছ বিক্রিতে কোনও অনিয়ম হলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যোগসাজস করে কমমুল্যে গাছ বিক্রির অভিযোগ সঠিক নয়। দরপত্র আহ্বান করে গাছ বিক্রি করা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতাকেই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে গাইবান্ধা বন বিভাগের ফরেস্টার মো. আবদুস সবুর জানান, তিনি সম্পৃতি এ জেলায় যোগদান কবরেছেন। সড়কের গাছ বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এমনকি গাছগুলো যাচাই-বাছাই করে দাম নির্ধারণ করার বিষয়টিও দার জানা নেই।
/এআর/








