নীলফামারীতে টিসিবির পণ্য উত্তোলন ও বিক্রয় বিপণন কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। জেলায় টিসিবির ২৫ জন পরিবেশক থাকলেও (ডিলার) বেশিরভাগ পরিবেশকই পণ্য উত্তোলন বন্ধ করেছে। এছাড়া পণ্য উত্তোলন করে কালো বাজারে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে।
সূত্র জানায়, নীলফামারী সদরে ৭, জলঢাকায় ২, ডিমলায় ৩, কিশোরগঞ্জে ৭, ডোমারে ৪ ও সৈয়দপুর উপজেলায় ২ জন ডিলার রয়েছে। রমজান শুরুর একদিন আগে সদরের ওয়াপদা সড়কের মেসার্স অভি এন্টারপ্রাইজ স্বত্তাধিকারী সতেন্দ্র নাথ ও পুরাতন স্টেশন সড়কের মেসার্স আব্দুল মান্নান নামে দুই প্রতিষ্ঠানকে টিসিবির পণ্য (ট্রাক সেলে) শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতে দেখা গেছে । এছাড়া অন্যান্য পরিবেশকরা পণ্য উত্তোলন করলেও তা কালো বাজারে বিক্রি করে অধিক মুনাফা অর্জন করে। গত এক সপ্তাহ থেকে ওই দুই পরিবেশকসহ বাকি পরিবেশকদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
অপরদিকে, জেলার ছয় উপজেলায় টিসিবির পরিবেশকদের কার্যক্রম বন্ধ থাকার অভিযোগ করেছেন ওইসব এলাকার বাসিন্দারা।
জেলা শহরের নিউ বাবুপাড়ার পান ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম (৪৬) বলেন, রমজানের একদিন আগে শহরের ডিসি মোড়ে টিসিবির পণ্য বিক্রি করতে দেখি। সেখান থেকে খেজুর, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও সোয়াবিন তেল কিনি। তার পর সপ্তাহ খানেক দুটি ট্রাকে মালামাল বিক্রি করতে দেখি। এরপর আর পুরো শহরে কোনও পণ্য চোখে পড়েনি। বাধ্য হয়ে বাজার থেকে বেশি দামে পণ্য সংগ্রহ করেছি।
তিনি আরও বলেন, টিসিবির পণ্য তালিকায় চিনি ৫৫ টাকা, ছোলা ৭০ টাকা। সেই চিনি বাজারে ৭০ টাকা এবং ছোলা ৮৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
একই এলাকার মাহাতাব আলী (৩০) বলেন, রোজার প্রথম সপ্তাহে ট্রাকে করে টিসিবির মালামাল বেচতে দেখেছি। তবে ডিলারের দোকান খুঁজে পাইনি।
জেলা সদরের টিসিবির ডিলার অভি এন্টার প্রাইিজের সত্বাধিকারী সত্যেন্দ্র নাথ রায় বলেন, রংপুর ডিপো থেকে মালামাল উত্তোলনের পর জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে হয়। যারা দোকানে বসে বিক্রি করেন তাদের মাস্টাররোল জমা দিতে হয়।
তিনি আরও বলেন, তিন বছর পর নবায়ন না করলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায়। ডিপোতে যে পরিমাণ মালামাল সরবরাহ দিচ্ছে তা তুললে পরিবহন খরচ উঠবে না। এ কারণে আমরা গত এক সপ্তাহ ধরে মালামাল তুলছি না।
জেলা শহরের থানা পাড়ার পরিবেশক মেক্সিম ট্রেডার্সের মালিক শাহিদ মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবারে রমজানে আমি একবার পণ্য উত্তোলন করে বিক্রি করেছি। কারন সরবরাহকৃত কিছু পণ্যের দাম বাজারে কম এবং পণ্য উত্তোলনে হয়রানির কারণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। বর্তমানে আমি আমার ডিলারশীপ বাতিলের চেষ্টা করছি।’
টিসিবির কার্যক্রম বন্ধের ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এজেএম এরশাদ আহসান হাবিব বলেন, ‘পণ্যের সরবারহ কম। তার পরেও টিসিবির মনিটরিং জেলা প্রশাসনের করার কথা। কিন্তু ওই মনিটরিং করার জন্য যে তথ্যের প্রয়োজন সেটির অভাব রয়েছে। আমাদের কাছে যেটুকু তথ্য থাকে সেটুকু মনিটরিং করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তথ্য না থাকায় অনেক ডিলার মালামাল উত্তোলন করে কালোবাজারে বিক্রি করছেন। তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে জেলার ডোমার উপজেলার সাবেত ট্রেডার্স এবং মিথুন রায় নামে দুইজনের ডিলারশিপ বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।’
রংপুর টিসিবি অফিস প্রধান মেশকাতুল আলম রবিবার (১১ জুন) মোবাইলে বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা প্রশাসন টিসিবির মালামাল বিক্রির মনিটরিং করছেন। উত্তোলনের পর কালোবাজারে মালামাল বিক্রির তথ্য প্রমাণিত হলে জামানতসহ ডিলারশিপ বাতিল হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে ট্রাক সেল চালু আছে, যে সব পরিবেশক তাদের বরাদ্দের মালামাল উত্তোলন করেননি তারা আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন।’
/এআর/








