জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ আগামী নির্বাচনের জন্য দলের নেতা কর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রংপুরের ৬টি আসনসহ রংপুর অঞ্চলের ২২টি সংসদীয় আসন জাতীয় পার্টি ছিল। এটা এখন আমাদের হাত ছাড়া হয়ে গেছে। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ২২টি আসন আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।’ মঙ্গলবার রংপুর নগরীর জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
এরশাদ বলেন, ‘দলের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি থাকলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে কারণে নিজেদের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করতে হবে। যে কোনও মূল্যে সব আসন ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই নেতাকর্মীদের নির্বাচনের জন্য মাঠে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।’
তিনি আরও বলেন, এবার জাতীয় সংসদে যে বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে তা দেশের সব স্তরের মানুষ প্রত্যাখান করেছে। জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে কারণে দেশের মানুষ এই বাজেট গ্রহণ করেনি। তবে আশা করি সরকার জনবিরোধী বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দিবেন এবং সংশোধন করবেন।
এরশাদ রাঙ্গামাটিসহ কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসে চার সেনা সদস্যসহ ৭০ জনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশের গৌরব সেনাবাহিনীর সদস্যরা আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের জীবন দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ দেশের মানুষ চিরদিন স্মরণ রাখবে।’ তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এসময় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘এ বছরেই রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরইমধ্যে চেয়াম্যান দলের পক্ষ থেকে রংপুর মহানগর জাপার সভাপতি মোস্তফাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি দলের নেতা কর্মীদের রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে ও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার পরামর্শ দেন। যে কোনও ভাবেই আমাদের মেয়র প্রার্থীকে জয়ী করতে হবে।’
প্রেসিডিয়াম সদস্য স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিয়ার রহমান রাঙা দলের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালে আমাদের চেয়ারম্যান কি কি কাজ করেছেন তা জনগণকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে।’
এসময় তিনি বলেন, ‘এরশাদ ইসলামের জন্য অনেক কিছু করেছে। তিনি শুক্রবারকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করেছেন। আগে সরকারি ছুটির দিন ছিল রবিবার। তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরের বৈদ্যুতিক ও পানির বিল সম্পূর্ণ মৌকুফ করে দিয়েছিলেন। জাতীয় সংসদে নামাজের জন্য বিরতি ঘোষণা করেছেন। যা এখনও পালন করা হয়। তিনি দেশের ৫ লাখ ইমামের মাসিক বেতনের ব্যবস্থা করেছেন। ওআইসিতে বিপুল পারিমাণ অর্থ দিয়েছেন ১৯৮৮ সালের ৭ জুন জাতীয় সংসদে তার উদ্যোগে ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। এরশাদই এক মাত্র ব্যক্তি যিনি ১০ টাকার নোটে আল্লাহ আকবর লিখিয়ে ছিলেন। শুধু তাই নয় তিনিই একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান যিনি হযরত মুহাম্মদ (সা.) রওজা মোবারকের অভ্যান্তরে ৩ বার প্রবেশ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। যা কোনও রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষে সম্ভব হয়নি। ’ এসব কথা জনগণের মাঝে প্রচারের জন্য দলের নেতা কর্মীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
ইফতার মাহফিলে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা জাপা সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, মহানগর জাপার সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির আহাম্মেদসহ অন্যান্য নেতারা।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: অবশেষে অপসারিত হচ্ছে মহেশখালের অস্থায়ী বাঁধ







